বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
কুয়েট শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবিতে উত্তাল পরিস্থিতি—ভিসি-প্রো-ভিসির অপসারণে ঢাকায় রওনা ৮০ শিক্ষার্থী!
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা ভিসি ও প্রো-ভিসির অপসারণসহ ছয় দফা দাবিতে চূড়ান্ত অবস্থান নিয়েছেন। আজ সকাল ৮টায় বিশেষ বার্তা নিয়ে ৮০ শিক্ষার্থী দুটি বাসে করে ঢাকার পথে রওনা দেন। তাঁদের মাথা ও চোখে বাঁধা ছিল প্রতিবাদের লাল কাপড়—যেন এক নীরব বিপ্লবের প্রতীক!
রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে গিয়ে দাবি তুলে ধরবেন।
যাত্রার আগে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, “ক্যাম্পাস এখন আর নিরাপদ নয়। তাই আমরা আমাদের দাবি নিয়ে সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করব। এরপর নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাব। ক্যাম্পাসে ফিরে যাব না, যতক্ষণ না নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। অনলাইনে আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাব।”
ভিসি ও প্রশাসনের দাবি খণ্ডন করে শিক্ষার্থীরা বলেন, “ভিসিসহ কিছু শিক্ষক বলছেন, আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে—এটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। হামলাকারীরা চিহ্নিত, তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, কুয়েট প্রশাসনই এই বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ।”
শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁরা এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তাঁরা উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট কুয়েটের সিন্ডিকেট সভায় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলেও, ছাত্রদল ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতে চাইলে ১৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ মিছিলের ডাক দেয়। কিন্তু কুয়েট ছাত্রদল সেই মিছিলে বাধা দেয় ও হুমকি দেয়। এরপর ছাত্রদল স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহায়তায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়, যা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এবং শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।
কুয়েট প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, “আমাদের চোখের সামনে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, অথচ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি! হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে বরং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
অবশেষে শিক্ষার্থীরা আলটিমেটাম দিয়েও দাবি পূরণ না হওয়ায় ভিসির অপসারণ চেয়ে বলেন—
🔹 রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের নীতিকে উপেক্ষা করে ছাত্রদলের অনুপ্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করা।
🔹 শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হলেও কোনো নিরাপত্তা না দেওয়া।
🔹 দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হলেও প্রশাসন দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানানো।
🔹 চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা।
🔹 বারবার আলটিমেটাম দেওয়ার পরও ছয় দফা দাবি উপেক্ষা করা।
কুয়েট এখন উত্তাল, শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর স্পষ্ট—তাঁরা আর পিছু হটতে রাজি নন!