শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন
টানা ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির প্রভাবে চট্টগ্রামে সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিভাগীয় শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিদিনই বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত মানুষ চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বর্তমানে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
প্রবল বৃষ্টির মধ্যে নগরীর কালুরঘাট মোহরা এলাকার সংগীত শিক্ষক সুজিত দাশ এক শিক্ষার্থীর বাসায় সংগীতের ক্লাস নিতে যাওয়ার পথে একটি বড় কালো সাপের কামড়ে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সুজিত দাশ জানান, সাপে কামড়ানোর পর চিকিৎসকেরা প্রথম ২৪ ঘণ্টা তাকে ঘুমাতে ও খাবার খেতে নিষেধ করেছিলেন। বর্তমানে কামড়ের স্থানে পচন দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, ওষুধে অবস্থার উন্নতি না হলে তার পায়ের বুড়ো আঙুল কেটে ফেলতে হতে পারে।
একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন পটিয়া উপজেলার টেগোটা এলাকার হৃদয় বড়ুয়া। তিনি জানান, রাতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার সময় প্রবল বৃষ্টির মধ্যে অসাবধানতাবশত একটি সাপের লেজে পা পড়ে গেলে সেটি তাকে কামড় দেয়। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তিনি কয়েক দফা বমি করেন।
রাউজান উপজেলার রঘুনন্দনহাট এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভোরে বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরতে নেমে পানির মধ্যে কোনো কিছুর কামড় অনুভব করলেও বিষয়টি প্রথমে গুরুত্ব দেননি। পরে অফিসে গিয়ে ক্ষতস্থানে তীব্র ব্যথা ও চুলকানি শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি চমেক হাসপাতালে ভর্তি হন।
নগরীর অক্সিজেন এলাকার পারভিন আক্তার জানান, অতিবৃষ্টিতে তাদের বাড়িতে কোমরসমান পানি জমে যায়। ঘরের পানি সরানোর সময় হঠাৎ একটি সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
এমন চারজনই নন, একই ধরনের আরও বহু রোগী বর্তমানে চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুই কক্ষবিশিষ্ট এই ওয়ার্ডে বিভিন্ন রোগের পাশাপাশি সাপে কাটা রোগীদেরও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেককে ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে করিডোর, সিঁড়ির পাশ কিংবা চলাচলের পথেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।