সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন
শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় Kaiser Hamid–এর একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়তেই শোক নেমে আসে শোবিজ অঙ্গনে। বাবা ও মেয়ের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমার আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন কায়সার হামিদ। পরিবারের নানা মুহূর্ত, বিশেষ করে মেয়েকে নিয়ে তাঁর আবেগঘন পোস্ট নিয়মিতই নজর কাড়ত অনুসারীদের। জন্মদিন, পারিবারিক আয়োজন কিংবা সাধারণ সময়ের ছবিতে বাবা–মেয়ের আন্তরিক সম্পর্ক ফুটে উঠত। সেই পরিবারেই হঠাৎ নেমে আসে গভীর শোক।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, ‘আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। যারা এই কঠিন সময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন ও সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন।’
লিভারজনিত জটিলতায় মারা গেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী Karina Kaiser। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৩০ বছর। তিনি মা–বাবা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। দেশের বরেণ্য দাবাড়ু Rani Hamid তাঁর দাদি।
কয়েক দিন ধরেই সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে Christian Medical College Vellore হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
গতকাল গণমাধ্যমকে কায়সার হামিদ জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। পরে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। একই সঙ্গে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে জনপ্রিয়তা পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়েও ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের কারণে তরুণদের মধ্যে তিনি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে নাটক ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে Internship এবং 36-24-36।
কারিনার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন সহকর্মী, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও ভক্তরা। অনেকে তাঁর প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব, হাসিমাখা উপস্থিতি ও সংগ্রামী মানসিকতার কথা স্মরণ করছেন। কয়েক দিন আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকা কারিনার এমন আকস্মিক বিদায় অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না।