শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন
তাহাজ্জুদ নামাজ ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি নফল ইবাদত, যা গভীর রাতে আদায় করা হয়। এই সময়কে আল্লাহর নৈকট্য লাভ, দোয়া কবুলের আশা এবং আত্মশুদ্ধির অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলামী শিক্ষায় রাতের নির্জনতায় আল্লাহর ইবাদতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হাদিসে এসেছে, ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ নামাজ হলো রাতের নামাজ।” (মুসলিম: ১১৬৩)
ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, তাহাজ্জুদ নামাজ গোনাহ মাফ, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখার অন্যতম মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের কিয়ামুল লাইল বা রাতের নামাজ আদায় করা উচিত। কারণ, এটি পূর্ববর্তী নেককারদের আমল, প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের পথ, গোনাহ মাফের উপায় এবং অপরাধ ও অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার মাধ্যম।” (সহিহ ইবনে খুজাইমা: ১১৩৫)
হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে, যারা মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করে, ক্ষুধার্তকে আহার করায়, সিয়াম পালন করে এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন রাতের নামাজ আদায় করে, তাদের জন্য জান্নাতে বিশেষ মর্যাদা ও প্রাসাদের সুসংবাদ রয়েছে। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ফজিলতের কথা উল্লেখ করেছেন। (তিরমিজি: ২৫২৭)
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, রাতের শেষ তৃতীয়াংশ আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সময়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করেন— কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব; কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব; কে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। (বুখারি: ৬৩২১)
ইসলামী চিন্তাবিদরা উল্লেখ করেন, দুনিয়ার ব্যস্ততা ও আরামের মধ্যেও যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ঘুম ত্যাগ করে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন, তারা বিশেষ সওয়াব ও আত্মিক প্রশান্তির আশা করতে পারেন। এ ইবাদত মানুষকে আল্লাহর স্মরণে অটল থাকতে এবং আখিরাতমুখী জীবন গঠনে উৎসাহিত করে।
রাতের শেষ প্রহরে ইবাদতের এই অনন্য সুযোগ কাজে লাগিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া, ইস্তিগফার এবং নেক আমলের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করার প্রতি ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।