বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নকল বা প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে সংশ্লিষ্টকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো কেন্দ্রেই নকল ধরা পড়লে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কেন্দ্রপ্রধানকেও দায়ী করে আইনি প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
বুধবার ঢাকার একটি সভায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এই বক্তব্য দেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বা প্রতারণার ঘটলে কোনওভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানান।
সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া সংশোধিত পরীক্ষা আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সুসংগত করতে আগের আইনগুলি সংশোধন করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁস, নকলসহ অনিয়মমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো রকম নরম বা ছাড়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে না। তিনি পরীক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নতুন আইনের বিধান মেনে চলতে সর্তক থাকার জন্য অনুরোধ করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষার মান ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এলোমেলোভাবে উত্তরপত্র পুনঃমূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো মূল্যায়নকারী যদি সঠিকভাবে খাতা নিরীক্ষা না করেন বা অনিয়মের প্রমাণ মেলে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি আগামি ২০২৭ সাল থেকে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা আনেন। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে পাঠ্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে এবং ২০২৮ সালে তা সংশোধন ও বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান। এছাড়াও ২০২২ সালের পর থেকে যারা অবসরভাতা পাননি, তাদের জন্য জুলাইয়ের মধ্যভাগ থেকে ভাতা প্রদান শুরু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানান।
সভায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান ও সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারসহ উচ্চবোর্ড কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।