বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন
ঢাবি হল রাজনীতি নিয়ে উত্তাল শিক্ষার্থীরা আজ!
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর রাজনীতি ছাড়া অন্য সব দলের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে দরখাস্ত দিয়েছেন বামপন্থি ছাত্রসংগঠন ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সদস্যসচিব উমামা ফাতেমা। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই দরখাস্ত ‘ভাইরাল’ হয়েছে।
শুক্রবার (৯ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ বরাবর এ সংক্রান্ত দরখাস্ত জমা দেন তিনি।
দরখাস্তে উমামা ফাতেমা উল্লেখ করেন, গত বছরের ১৭ জুলাই সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে তারা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, সুফিয়া কামাল হলে সকল ধরণের রাজনীতি (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, শিবির, বাগছাস) নিষিদ্ধ থাকবে।
তিনি জানান, ‘গত এক বছরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের এই চুক্তি কার্যকর ছিল। তবে সম্প্রতি কিছু সংগঠন গোপনে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আজ সকালে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী ছাত্রদল হলে সাত সদস্যবিশিষ্ট হল কমিটি ঘোষণা করেছে।’
উমামা ফাতেমা দাবি করেন, এসব কার্যকলাপ জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে গৃহীত চুক্তিকে লঙ্ঘন করছে, যা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা।
দরখাস্তে তিনি চারটি সংগঠনের নাম উল্লেখ করে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অনুরোধ করেন। তবে বাম সংগঠনগুলো নিয়ে তার কোনো বক্তব্য নেই। যদিও হলে বামপন্থি শিক্ষার্থীরাও অবস্থান করছেন এবং কিছু হলে তাদের কমিটিও রয়েছে।
এর আগে উমামা ফাতেমা এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শুক্রবার রাতের মধ্যে সেটি বাতিল করার আলটিমেটাম দেন।
এ ব্যাপারে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হামজা মাহবুব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপে লিখেছেন, ‘উমামা ফাতেমা বাম রাজনীতি ছাড়া অন্য সব রাজনীতিকে বন্ধ করতে চান। এটা কেমন কথা? এই হিপোক্রিসি সত্যিই অসাধারণ! হল ও একাডেমিক এলাকায় রাজনীতির বিরুদ্ধে সবাই, আর উনি শুধু বাম রাজনীতি ব্যতীত বাকি সব রাজনীতির বিরুদ্ধে।’
শুক্রবার রাতে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা নিয়ে হল রাজনীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। রাত সাড়ে ১২টায় রোকেয়া হলে শিক্ষার্থীরা হলের তালা ভেঙে বিক্ষোভে অংশ নেন। এরপর সব হলে এই ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হন। পরবর্তীতে হলে সব ধরনের প্রকাশ্য ও গোপন রাজনীতি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান।
ড. নিয়াজ আহমেদ খান জানান, হল পর্যায়ে ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই হল প্রভোস্টের নেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে এবং হল পর্যায়ে ছাত্ররাজনীতি নিয়ন্ত্রিত থাকবে।