শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
ইসরায়েল বিরোধী কথা বললেই বিপদ! যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে হলে চাই ‘বিশেষ ছাড়পত্র’!
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বা ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বললেই বিপাকে পড়ছেন যুক্তরাষ্ট্রগামী ভিসা আবেদনকারীরা। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটিমাত্র মন্তব্যও ডেকে আনতে পারে ভয়ঙ্কর বিপদ—হতে পারে ভিসা বাতিল, আটক কিংবা ফেরত পাঠানোর মতো সিদ্ধান্ত!
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলার মিশনে একটি গোপন বার্তা পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে—২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পর যেসব ব্যক্তি গাজা সফর করেছেন, তাদের অতীত সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম খুঁটিয়ে দেখা হবে। বার্তাটি প্রথম প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এই নির্দেশনা অনুসারে, সরকারি-বেসরকারি, কূটনৈতিক—সব শ্রেণির ভিসা আবেদনকারীই পড়বেন নজরদারির আওতায়। গাজা ভ্রমণ স্বল্প সময়ের হলেও তাও বিবেচনায় নেওয়া হবে। যদি কারও পোস্ট, মন্তব্য বা অনলাইন কার্যকলাপে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বা নিরাপত্তার জন্য হুমকির আভাস মেলে, তাকে ‘সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি ওপিনিয়ন’ (SAO) পেশ করতে হবে—যা এক ধরনের কঠোর অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রক্রিয়া।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” তবে বিষয়টির গভীর ব্যাখ্যা তিনি এড়িয়ে যান।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি শুরু হয়। ১৯৫২ সালের অভিবাসন আইনে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশ্বাস অনুযায়ী কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি হন, তবে তার ভিসা বাতিল বা বহিষ্কারের অধিকার সংরক্ষিত থাকবে—even যদি তিনি স্থায়ী বাসিন্দাও হন।
এই কড়াকড়ির আওতায় ইতোমধ্যে বহু শিক্ষার্থী, যাদের শিক্ষাবিষয়ক বৈধ ভিসা ছিল, তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কেউ কেউ আটকও হয়েছেন—শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায়।
রয়টার্সের তথ্যমতে, এই নতুন কূটনৈতিক বার্তায় স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যা বিষয়টির গুরুত্ব ও কড়াকড়িকে আরও জোরালো করেছে।
এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার সংগঠন ও মানবাধিকার আইনজীবীরা। তাদের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় এটি ভয়ংকর হস্তক্ষেপ। একজন মানুষ যদি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলেন, তাকেও রাষ্ট্রীয় হুমকি হিসেবে দেখা—এটা যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী