শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন
তীব্র তাপপ্রবাহে ইউরোপের একাধিক দেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশে চরম গরমের কারণে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার প্রভাবে স্পেনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় একাধিক বড় জনসমাগম ও অনুষ্ঠান বাতিল করা হচ্ছে।
স্পেনের সরকারি মোমো মনিটরিং সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, চলমান তাপপ্রবাহে দেশটিতে অন্তত ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বার্সেলোনার একটি বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের কারণে প্রায় ১৬ হাজার বাসিন্দাকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সে তীব্র গরমের কারণে প্যারিসের সব হাসপাতালে জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে এবং বাড়িতেও আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সময়ে অনিরাপদ স্থানে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে ৫৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
দাবদাহের প্রভাব ইউরোপের অন্যান্য দেশেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জার্মানির সারব্রুকেনে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়েছে। বেলজিয়ামের ক্লাইন ব্রোগেলে ৪০ ডিগ্রি, নেদারল্যান্ডসের লিমবার্গে ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং যুক্তরাজ্যের সাফোকে ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
শুক্রবার ইউরোপজুড়ে অন্তত ১৫ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাপপ্রবাহ আরও উত্তর ও পূর্ব ইউরোপে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে চেক প্রজাতন্ত্র ও অস্ট্রিয়ায় নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মুখপাত্র ক্লেয়ার নুলিস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এমন চরম আবহাওয়া এখন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ।
বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শক্তিশালী একটি উচ্চ-চাপ বলয়ের কারণে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং দক্ষিণ ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি রয়েছে। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানিয়েছে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ এবং এখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চরম গরমের প্রভাব বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতেও পড়েছে। নদীর পানির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোয় সুইজারল্যান্ডের বেজনউ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি রিয়্যাক্টর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কোলন থেকে প্যারিসগামী একটি ইউরোস্টার ট্রেন বিকল হয়ে পড়ায় প্রায় ৪০০ যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন এবং গরমজনিত অসুস্থতায় তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে প্যারিস প্রাইড মার্চ, মিউজিক ফেস্টিভ্যাল, ম্যারাথনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বহু গণআয়োজন স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ গবেষকরা জানিয়েছেন, অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে এ বছর স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগেই হিমবাহ গলতে শুরু করেছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের আরও একটি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত।