বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন
আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী, ছাত্ররাজনীতি এখন পরিবর্তনের সময়।
অনলাইন ডেস্ক
হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. মির্যা গালিব বলেছেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে আজ ফ্যাসিস্ট রূপ ধারণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারডিসিপ্লিনারি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কনসোর্টিয়াম (আইআরডিসি) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লব ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, ১৯৭১ সালের চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ যেভাবে ফ্যাসিবাদী পথ অবলম্বন করেছে, তেমনি আগামী দিনে জুলাই বিপ্লবের আদর্শকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে এনসিপিও ফ্যাসিস্ট দৃষ্টিভঙ্গি নিতে পারে।
ড. গালিব বলেন, ছাত্ররাজনীতি যদি শুধু মাসেল পাওয়ার বা পেশিশক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়, তবে তা বন্ধ করা উচিত। আদর্শবিহীন রাজনীতি ছাত্রসমাজের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের কঠোর বিরোধিতা করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে শুধুমাত্র দেশের জনগণ, বাইরের কোনো শক্তি নয়।
সেমিনারে তিনি জুলাই বিপ্লবকে জাতীয় রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, জুলাইয়ের পেছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই, সামনে এগোতে হবে এর ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল এখনো এই ঘোষণাপত্রের গুরুত্ব বুঝতে পারেনি।
ড. গালিব বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে নিজের নেতৃত্ব গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে হবে। মনোনয়নভিত্তিক নয়, কমিটি গঠন করতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে।
ভোট সংস্কৃতি বদলের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মার্কা দেখে নয়, যোগ্যতা দেখে ভোট দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা অপরিহার্য। দেশের রাজনীতির ভবিষ্যত নির্ধারণে এটি সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল রাজনৈতিক অনিবার্যতা। ১৯৫২ ও ১৯৭১ সালের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২৪শে জুলাই’র গণঅভ্যুত্থান হলো বাঙালির ভোটাধিকার হরণর প্রতিবাদ। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল যুবক, ছাত্র-ছাত্রী ও নারী। এ আন্দোলনের হাত ধরে দেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে। আমরা চাই আগামী দিনে রাজনীতির সংস্করণ পরিবর্তন হোক।
তিনি বলেন, যারা জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলেন, এখন নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তাদের। সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় আমরা সক্ষম হবো।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। ২০০৮ সালের নির্বাচন স্বচ্ছ ছিল না বলে জানান তিনি। সুযোগ এসেছে হারিয়েছি, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রয়োজন ভালো শাসক, ভালো মানুষ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানটি আইআরডিসির সাধারণ সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হকের সঞ্চালনায় এবং আইআরডিসির সভাপতি ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হেসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন, বিভিন্ন শিক্ষক ও সংগঠনের নেতারা।