সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন
৫ উইকেটে ৭১ রান থেকে শেষ পর্যন্ত ২৩৫ রানের সংগ্রহ, আর ২ উইকেটে ১২০ থেকে ১৪৩ রানে অলআউট—শারজায় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আফগানিস্তান-বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে দেখা গেল এমন বিপরীতমুখী দুটি দৃশ্য। আফগানিস্তান শুরুর ধাক্কা সামলে অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও, বাংলাদেশ জয়ের পথে এগিয়ে থেকেও দেখে চরম বিপর্যয়।
মাত্র ২৩ রানের ব্যবধানে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ৯২ রানে পরাজিত হয়েছে। বিষয়টি অবিশ্বাস্যই বলা যায়! ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন স্বীকার করেছেন, হারের দায় তাঁর কাঁধেই। তিনি মনে করেন, তাঁর আউটটাই ম্যাচের গতি পাল্টে দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যান ও বোলারদের প্রশংসাও করেছেন।
বল হাতে বাংলাদেশ দারুণ শুরু করেছিল। দ্রুত ৫ উইকেট তুলে নিয়ে চাপে ফেলে দিয়েছিল আফগানিস্তানকে। কিন্তু এরপরই হাশমতউল্লাহ শহীদি ও মোহাম্মদ নবীর গড়া অসাধারণ এক জুটিতে পাল্টা জবাব দেয় আফগানরা। ১২২ বলে ১০৪ রানের এই পার্টনারশিপ তাদের লড়াইয়ের ভিত গড়ে দেয়।
ম্যাচ শেষে আফগান ব্যাটসম্যানদের প্রশংসা করে নাজমুল বলেন, ‘প্রথম ১৫-২০ ওভারে আমরা দারুণ শুরু করেছিলাম। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোয় পরিকল্পনা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি। নবী অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। আমাদের খুব বেশি আক্রমণাত্মক হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। উইকেট বোলারদের জন্য সহায়ক ছিল। তবে শহীদি ও নবী সত্যিই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে।’
২৩৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে জয়ের শক্ত ভিত পেয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজের ভালো শুরু এনে দেওয়া সত্ত্বেও গজনফরের ঘূর্ণিতে ধসে পড়ে ব্যাটিং লাইনআপ। আফগানিস্তানের সামনে কার্যত কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। নাজমুল ৪৭ রান করে আউট হওয়ার পর থেকেই পথ হারায় দল।
নিজের আউটের ব্যাপারে অধিনায়ক নাজমুল বলেন, ‘আমার উইকেটটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। আমি সেট হয়ে গিয়েছিলাম, আমার ইনিংস আরও বড় হওয়া উচিত ছিল। আফগানিস্তানের সব সময়ই রহস্য স্পিনার থাকে। আজ গজনফরও খুব ভালো বল করেছে। আমাদের প্রস্তুতি ভালো ছিল। তবে দিনটা আমাদের ছিল না। আশা করি, আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’