1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহে প্রাণহানি, ভাঙছে তাপমাত্রার রেকর্ড - Janatar Jagoron

ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহে প্রাণহানি, ভাঙছে তাপমাত্রার রেকর্ড

  • সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ২৬ বার পঠিত
ইউরোপ তাপপ্রবাহ

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) মহাদেশের বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা অতীতের বহু রেকর্ড অতিক্রম করেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ফ্রান্স, যেখানে তীব্র গরমে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুও রয়েছে।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলের বিখ্যাত ওয়াইন উৎপাদন এলাকা বোর্দোতে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়েছে। একইভাবে মধ্যাঞ্চলের পোয়তিয়ে শহরে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯৪৭ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতির কারণে দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে অথবা পাঠদানের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ফ্রান্সে দুই শিশুসহ প্রাণহানি

দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের কারপঁত্রা শহরে ২ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশুকে পারিবারিক গাড়ির ভেতরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তারা মারা যায়।

এ ছাড়া বোর্দো এলাকায় অতিরিক্ত গরমজনিত স্বাস্থ্য জটিলতায় সপ্তাহান্তে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী তিনজন প্রবীণের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

ফ্রান্সের সিভিল সেফটি সার্ভিস জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, তাপপ্রবাহের সময় পানিতে নামার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং নির্ধারিত নিরাপদ স্থান ছাড়া সাঁতার না কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে সোমবারের মধ্যে দেশটিতে পানিতে ডুবে ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

‘ওমেগা ব্লক’ তাপপ্রবাহের প্রধান কারণ

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের বর্তমান তাপপ্রবাহের পেছনে রয়েছে ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ আবহাওয়াগত ব্যবস্থা। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রিক বর্ণ ‘ওমেগা’র আকৃতির মতো এই বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থায় মাঝখানে গরম বাতাস আটকে থাকে এবং দুই পাশে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা বায়ুর প্রবাহ তৈরি হয়।

এর ফলে উত্তর আফ্রিকার সাহারা অঞ্চল থেকে উষ্ণ বায়ু ইউরোপে প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে এই আবহাওয়াগত ব্যবস্থা ধীরে সরে যাওয়ায় শীতল বাতাস প্রবেশের সুযোগও কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যুক্তরাজ্য ও স্পেনে নতুন রেকর্ডের আশঙ্কা

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, চার দিনের চলমান তাপপ্রবাহে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এমন হলে ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালের জুন মাসের সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের রেকর্ড ভেঙে যাবে।

এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই দেশটিতে মে মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছিল।

স্পেনেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তুলনামূলক শীতল উত্তরাঞ্চলের সান সেবাস্তিয়ান শহরে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, অনেক এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করছে।

ইতালিতে লাল সতর্কতা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ

অতিরিক্ত গরমের কারণে ইতালির ১২টি শহরে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তুরিন শহরে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত কর্মী ও জেনারেটর প্রস্তুত রেখেছে।

তাপপ্রবাহে বিপাকে বন্যপ্রাণী

অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু মানুষের ওপর নয়, বন্যপ্রাণীর ওপরও পড়ছে। বেলজিয়ামের একটি বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্র জানিয়েছে, সুইফট, সোয়ালো, চড়ুই এবং স্টারলিংসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভবনের ছাদে থাকা এসব পাখির বাসায় তাপমাত্রা ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। অতিরিক্ত গরমে অনেক পাখি বাসার ভেতরে আটকে থাকার পরিবর্তে নিচে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..