1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
নতুন বেতনকাঠামোয় জুলাই থেকে মূল বেতন কার্যকরের সম্ভাবনা - Janatar Jagoron
  • E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন

নতুন বেতনকাঠামোয় জুলাই থেকে মূল বেতন কার্যকরের সম্ভাবনা

  • সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৬৫ বার পঠিত
নতুন বেতনকাঠামো

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর হতে পারে। তবে নতুন ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে। একই সঙ্গে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমানোর বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, প্রায় ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় একই বেতন কাঠামো বহাল থাকায় মূল্যস্ফীতির প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সে কারণে আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিন ধাপের পরিবর্তে দুই ধাপের পরিকল্পনা

অর্থ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, বাস্তবায়ন কমিটি প্রথমে তিন ধাপে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কমিশনের সুপারিশকৃত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জুলাই বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন ভাতা কার্যকরের কথা ছিল।

তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে অনেক কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে ৫০ শতাংশ বেতন কার্যকর হলেও প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি খুব সীমিত হবে। কিছু ক্ষেত্রে মোট প্রাপ্ত অর্থ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। সরকারি কর্মচারীদের আপত্তির পর কমিটি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনে। বর্তমানে সুপারিশ করা হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন ভাতা চালু হবে।

সাবেক অর্থসচিবের মতামত

এ বিষয়ে সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা থাকলে পুরো বেতনকাঠামো একবারেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো। তবে তিন ধাপের পরিবর্তে দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা তুলনামূলকভাবে ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সরকারি কর্মচারীদের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে আরও মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

পর্যালোচনা কমিটির কাজ প্রায় শেষ

নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়নের জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক বেতনকাঠামোর প্রতিবেদনও প্রায় প্রস্তুত। এখন কেবল সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা।

জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই সরকারি চাকরিজীবীদের পেশাগত দক্ষতা, দুর্নীতিমুক্ত দায়িত্ব পালন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তাঁদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দের ইঙ্গিত

বর্তমান অষ্টম বেতনকাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। নবম বেতন কমিশন এই সীমা বাড়িয়ে যথাক্রমে ২০ হাজার ও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পুরো সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এই অতিরিক্ত অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

অর্থনীতির প্রভাব বিবেচনার পরামর্শ

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের পর থেকে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সমন্বয়ের যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের আগে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাজেট ঘাটতি, ঋণ গ্রহণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির সম্ভাব্য প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..