শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন
মানুষের জীবনে সব সময় সুখ ও স্বস্তির সময় থাকে না। কখনো ঋণের বোঝা, চাকরি হারানোর শঙ্কা, প্রিয়জনের মৃত্যু, অসুস্থতা, অর্থসংকট কিংবা ব্যর্থতার মতো কঠিন বাস্তবতা জীবনে নেমে আসে। তবে একজন মুমিন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হন না। কারণ কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ (সুরা জুমার: ৫৩)
এই আয়াত বিশ্বাসীদের জন্য আশার বার্তা বহন করে। যিনি মৃত ভূমিকে বৃষ্টির মাধ্যমে পুনর্জীবিত করেন, তিনিই মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করে শান্তি দান করতে সক্ষম। ইসলামি শিক্ষায় এমন কয়েকটি আমলের কথা উল্লেখ রয়েছে, যা বিপদের সময়ে আল্লাহর সাহায্য লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। হাদিসে উবাই ইবন কাব (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, নিজের দোয়ার কতটুকু অংশ দরুদের জন্য নির্ধারণ করবেন। শেষ পর্যন্ত যখন তিনি পুরো দোয়া দরুদে ব্যয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এর ফলে দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং গোনাহ ক্ষমা করা হবে। (তিরমিজি: ২৪৫৭)
ইস্তিগফার বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করে এবং গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অন্যতম মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে, আল্লাহ তার প্রতিটি সংকট থেকে উত্তরণের পথ তৈরি করে দেবেন, দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন, যা সে কল্পনাও করেনি। (আবু দাউদ: ১৫১৮)
ইস্তিগফারের জন্য আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জানবিন ওয়া আতুবু ইলাইহি, রব্বিগফিরলি ওয়াতুব আলাইয়া ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রহীম এবং সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারসহ বিভিন্ন দোয়া পাঠ করা যেতে পারে।
হজরত ইউনুস (আ.)-এর দোয়া মুসলিমদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হিসেবে পরিচিত।
লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-জালিমিন।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর আমি তাকে দুশ্চিন্তা ও কষ্ট থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম। এভাবেই আমি মুমিনদের মুক্তি দিয়ে থাকি।’ (সুরা আম্বিয়া: ৮৮)
এই আয়াত শুধু ইউনুস (আ.)-এর ঘটনা নয়; বরং সব মুমিনের জন্য আল্লাহর সাহায্য ও মুক্তির সুসংবাদ বহন করে।
‘ইয়া জাল-জালালি ওয়াল ইকরাম’ আল্লাহর অন্যতম মহান নাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই নামের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে উৎসাহ দিয়েছেন। (মুসনাদে আহমাদ: ১৭৫৯৬)
এই জিকির মানুষের মনে দৃঢ় বিশ্বাস সৃষ্টি করে যে, মহিমা ও সম্মানের অধিকারী আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।
ইসলামি শিক্ষায় বিপদকে সব সময় শাস্তি হিসেবে দেখা হয় না। অনেক সময় এটি বান্দাকে আল্লাহর দিকে আরও বেশি ফিরে আসার সুযোগ করে দেয়। তাই কঠিন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে দরুদ শরিফ, ইস্তিগফার, দোয়ায়ে ইউনুস এবং ‘ইয়া জাল-জালালি ওয়াল ইকরাম’-এর জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।