শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে বর্তমানে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অতীতের ঘটনায় আটকে না থেকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থ পাচারের প্রভাবে একসময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গিয়েছিল।
সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে কোনো বৃদ্ধি ঘটেনি, যা দেশের বাজেট ইতিহাসে প্রথম বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, এটি একটি “জীবনবান্ধব” বাজেট। তিনি জানান, অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের মতো চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতৈক্য এবং কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও জনগণের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংসদে অতীতের বিষয় নিয়ে তুলনামূলক বেশি আলোচনা হলেও জনগণের প্রত্যাশা ভবিষ্যৎমুখী রাজনীতি ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা।
সংসদ নেতা জানান, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার চাপ কিছুটা কমাতে বাজেটে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে অন্যান্য বছরের মতো বাজেট ঘোষণার আগে বা পরে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়নি এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।
সরকারপ্রধান আরও বলেন, এবারের বাজেট শুধু বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি পরিকল্পনা। তাঁর মতে, বাজেটের মূল লক্ষ্য ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা, নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ধাপে ধাপে অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।