শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক ,
প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিল ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিধিমালা প্রণয়ন, কোরআন অবমাননার বিচার, কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
হেফাজতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংগীত শিক্ষক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, অথচ বহু বছর ধরে আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ অভিভাবকরা প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে এলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে অভিভাবকদের মতামত না নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় গান-বাজনা চাপিয়ে দেওয়া ষড়যন্ত্রমূলক ও ইসলামবিরোধী সিদ্ধান্ত, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে জঙ্গিবাদের দোহাই দিয়ে একদল ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠী শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মহীনতা ঢোকানোর ষড়যন্ত্র করেছে। এখন সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় সংগীত শিক্ষক নিয়োগের গেজেট জারি করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। তবুও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় কোনো পদক্ষেপ নেননি, এমনকি কোনো জবাবও দেননি।”
সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অভিযোগ করেন, “আবরার ফাহাদ হত্যা ও পিলখানা ট্র্যাজেডির স্মরণে নতুন জাতীয় দিবস ঘোষণা করা হলেও, ৫ মে শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে উপেক্ষিত। এটি সেক্যুলার চক্রের ইসলামবিদ্বেষী মানসিকতার প্রতিফলন। আমরা সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—৫ মে তারিখটিকে শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করতে হবে, অন্যথায় আমরা মনে করব আমাদের ত্যাগ-তিতিক্ষাকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে, এবং আমরা বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।”
হেফাজতের দাবি ও কর্মসূচিসমূহ:
১. অবিলম্বে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের বিধিমালা বাতিল করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
২. কোরআন অবমাননার বিচার ও ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষায় সর্বোচ্চ কঠোর আইন করতে হবে, যাতে কোনো ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ বা অবমাননা না ঘটে।
৩. রাষ্ট্রীয়ভাবে ৫ মে দিনটিকে ‘শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা করতে হবে।