বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
ভিপি নিহার সুলতানা তিথির দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, ত্যাগের ইতিহাস এবং সাংগঠনিক দক্ষতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত করার জন্য উপযুক্ত বিবেচনা করবে। এর পেছনে কয়েকটি যুক্তিসঙ্গত ও শক্তিশালী কারণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. দীর্ঘকালীন রাজপথের সক্রিয়তা ও আনুগত্য
নিহার সুলতানা তিথি ১৯৯২ সাল থেকে অর্থাৎ প্রায় তিন দশক ধরে দলের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে মূল দলের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ১/১১ পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ দলের প্রতি তার অবিচল আনুগত্য ও আদর্শের প্রমাণ দেয়।
২. রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ও ত্যাগের ইতিহাস
ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে তিনি অসংখ্যবার রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। এমনকি ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ঠিক আগমুহূর্তেও তার নামে মামলা দেওয়া হয়েছিল। দলের জন্য এমন ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদের মূল্যায়ন করা যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য নৈতিক দায়িত্ব এবং এটি তৃণমূলের কর্মীদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে।
৩. তৃণমূল থেকে উঠে আসা বলিষ্ঠ নেতৃত্ব
তিনি সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের ভিপি ও জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন নেত্রী যখন ছাত্ররাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে জেলা মহিলা দল এবং কেন্দ্রীয় যুব মহিলা দলের নেতৃত্বে আসেন, তখন তার মধ্যে সাংগঠনিক ভিত্তি অনেক মজবুত থাকে। বগুড়ার স্থানীয় রাজনীতিতে তার গভীর প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ তাকে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
৪. শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাদারিত্ব
তিনি একজন আইনের স্নাতক (LL.B)। সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া, আইন প্রণয়ন এবং নীতিনির্ধারণী বিতর্কে অংশগ্রহণের জন্য একজন শিক্ষিত এবং আইন সচেতন প্রতিনিধির প্রয়োজন। তার শিক্ষাগত পটভূমি তাকে জাতীয় সংসদে দলের বক্তব্য ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম করে তুলবে।
৫. নারী ও যুব সমাজের প্রতিনিধিত্ব
বগুড়া জেলা মহিলা দল এবং যুব মহিলা দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করার সুবাদে তিনি নারী সমাজের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন। সংরক্ষিত নারী আসনে এমন একজনকে প্রয়োজন যিনি নারীদের অধিকার আদায়ে কাজ করার পাশাপাশি দলের নারী অঙ্গসংগঠনগুলোকে আরও গতিশীল করতে পারবেন।
৬. জুলাই বিপ্লবে সাহসী ভূমিকা
বিগত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়, তখন তিনি সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নতুন প্রজন্মের ভোটার এবং রাজপথের সাহসী সেনানী হিসেবে তার এই ভূমিকা তাকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
সারসংক্ষেপ:
যোগ্যতা, সততা, মেধা এবং রাজপথের সংগ্রামী ইতিহাসের সংমিশ্রণে ভিপি নিহার সুলতানা তিথি একজন আদর্শ প্রার্থী। দলকে শক্তিশালী করতে এবং সংসদের ভেতর ও বাইরে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে তার মতো একজন পরীক্ষিত ও শিক্ষিত নেত্রীর মনোনয়ন প্রাপ্তি দলের জন্য একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হবে।