বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন
বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করতে বিভিন্ন দেশে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতির কারণে বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে সরকার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নরসিংদী-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে প্রথমেই প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়াসহ নতুন দেশগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের সফর আয়োজন করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড-এর সঙ্গে শ্রমবাজার চালুর লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও চলছে।
বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশের সুপারিশে স্থানীয় লবিস্ট বা বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিএনপির সংসদ সদস্য নায়াব ইউসূফ আহমেদের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর জন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও উপদেষ্টা চলতি মাসের ৮ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত মালয়েশিয়া সফর করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এগিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র অঞ্চল ব্যবস্থাপনা ও এর সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য খাত, পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সুনীল অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষক রয়েছেন তিন লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন। এর মধ্যে এক লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইতোমধ্যে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুলাই শুরু হতে যাওয়া পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বাকি শিক্ষকদেরও ইংরেজি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।