রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেও নাগরিকত্ব নয়? ট্রাম্পের আদেশে সন্তানদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম মানেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক—যে নিয়মে আশার আলো দেখতেন অসংখ্য অভিবাসী পরিবার, সেই নীতির মূলে কোপ বসাতে চলেছে সুপ্রিম কোর্টের রায় ও ট্রাম্পের পুরনো নির্বাহী আদেশ। আর এবার সেই আগুনে ঘি ঢাললেন রিপাবলিকান সিনেটর মার্কওয়েইন মুলিন, যিনি সরাসরিই বললেন—“অবৈধ অভিবাসীর সন্তানেরাও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হওয়া উচিত।”
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেয়, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের পথ সহজ করে দেয়। সেই আদেশে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রচলিত নীতির অবসান চান।
এ বিষয়ে রোববার এনবিসির জনপ্রিয় টক শো ‘Meet the Press’-এ কথা বলেন সিনেটর মুলিন। স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “যদি অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিয়েও থেকে যেতে চায়, তবে সেটা এক ধরনের আইনি বিভ্রান্তি। মা–বাবা যেখানেই যাবেন, সন্তানদেরও তাঁদের সঙ্গে যাওয়া উচিত।”
সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকার তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, “কিন্তু এই শিশুদের জন্ম তো যুক্তরাষ্ট্রে। তারা আইনের চোখে তো মার্কিন নাগরিক!”
মুলিনের উত্তর ছিল, “তবে কি আপনি শিশুদের মা–বাবা থেকে আলাদা করতে চান? এটা তো মানবিক নয়।” এই উত্তরের মধ্যেই তিনি বুঝিয়ে দেন, জন্মভূমি যতই যুক্তরাষ্ট্র হোক না কেন, অভিবাসন নীতিতে পরিবারকে একক ইউনিট হিসেবেই দেখতে চান তিনি।
মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মানো শিশুদের নাগরিকত্ব লাভ করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সেই নীতির সাংবিধানিক ব্যাখ্যা পুনর্বিবেচনার দাবি তোলে। সুপ্রিম কোর্টের রায় সেই ব্যাখ্যাকে সম্ভাব্যভাবে আবারও আদালতের আলোচনায় নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই আদেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে কার্যকর হয়, আবার অন্য রাজ্যে না হয়, তাহলে একটি চরম আইনি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। একদিকে জন্মসূত্রে নাগরিক, অন্যদিকে ‘অবৈধ সন্তান’—একই দেশের মাটিতে দু’টি পরিচয়, যা দেশজুড়ে বৈষম্যের এক নতুন অধ্যায় রচনা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে এমন বহু পরিবার আছে, যেখানে মা–বাবা বৈধ কাগজ ছাড়াই বাস করছেন, কিন্তু তাঁদের সন্তানরা দেশটিতেই জন্মেছে এবং স্কুল-কলেজে পড়ছে। এখন যদি এই শিশুদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে, তাহলে লাখো শিশু, অভিভাবক ও স্কুল প্রশাসন চরম অনিশ্চয়তায় পড়বে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিষয়টিকে ‘পরোক্ষ মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত পারিবারিক বন্ধন ভাঙবে এবং সমাজে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই আদেশ এবং মুলিনের বক্তব্য একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ, যা আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অভিবাসন ইস্যুকে বড় করে তুলতে পারে। ভোটারদের বিভক্ত করার জন্য ‘জন্মভূমি বনাম বৈধতা’ বিতর্ক সামনে আনা হচ্ছে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।
এই পরিস্থিতিতে একদিকে অভিবাসন আইন নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়া রিপাবলিকানরা, অন্যদিকে মানবিকতার প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ জানাতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। ভোটের ময়দানে এই ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।