শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন
লন্ডনে কোরআন পোড়ানো! আদালতের রায়ে তুমুল বিতর্ক!
অনলাইন ডেস্ক
লন্ডনে তুরস্কের কনস্যুলেটের সামনে পবিত্র কোরআন শরিফ পোড়ানোর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছেন যুক্তরাজ্যের একটি আদালত। অভিযুক্ত ৫০ বছর বয়সী হামিত কোসকুনকে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২৪০ পাউন্ড (প্রায় ৩২৫ মার্কিন ডলার) জরিমানা করেন। খবর গণমাধ্যম।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, যখন কোসকুন লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে তুরস্কের কনস্যুলেটের সামনে পবিত্র কোরআনে আগুন ধরিয়ে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। তিনি চিৎকার করে কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেন, যা উপস্থিত জনতার মাঝে বিশৃঙ্খলা ও ক্ষোভের সঞ্চার করে।
বিচারক জন ম্যাকগারভা রায়ে বলেন, “ধর্মগ্রন্থ পোড়ানো কারও কারও কাছে অপছন্দনীয় হলেও, তা এককভাবে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ হতে নাও পারে। তবে কোসকুন যে সময়, স্থান ও ভাষা বেছে নিয়েছেন, তা পরিস্থিতিকে আরও উসকানিমূলক করে তোলে। বিশেষত ইসলাম ধর্মকে লক্ষ্য করে অশ্লীল শব্দচয়ন এই ঘটনাকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।”
তবে কোসকুন তার বিরুদ্ধে আনা ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি এই কাজ করেছেন তুরস্ক সরকারের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের প্রতিবাদ জানাতে, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়। তার আইনজীবী বলেন, “এই মামলার মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যে বিলুপ্ত ব্লাসফেমি আইনের মতো একটি বিতর্কিত আইনের ছায়া আবারও হাজির করা হচ্ছে।”
আদালতের নথিতে উঠে এসেছে কোসকুনের পারিবারিক পটভূমি—তার বাবা কুর্দি ও মা আর্মেনীয়। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলে বসবাস করছেন।
এই রায় যুক্তরাজ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, ধর্মীয় অনুভূতির ভিত্তিতে কাউকে দণ্ড দেওয়া যুক্তরাজ্যের মত ধর্মনিরপেক্ষ দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এর ফলে ধর্ম অবমাননার মতো আইন নতুন করে আইনি বাস্তবতায় ফিরে আসতে পারে।
তবে বিপরীত মতও রয়েছে। অনেকে আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, প্রকাশ্যে ধর্ম অবমাননাকর আচরণ সহিংসতা ও সামাজিক বিভেদ উস্কে দিতে পারে, তাই এমন পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়।