সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন
আধুনিক অন্দরসজ্জায় এখন হালকা নকশার আধিপত্য। ছোট্ট ফ্ল্যাটবাড়ির খাবার ঘরটিও অত্যাধুনিক আসবাবে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হচ্ছে। শহরের অন্দরজীবনে ভারী কারুকার্যপূর্ণ আসবাবের চাইতে হালকা নকশার আসবাবই এখন অধিক জনপ্রিয়। মিনিমালিজমের ধারণা কেবল আসবাবের সংখ্যা ও নকশায় নয়, বরং কার্যকারিতা অনুসারে আসবাবের বিন্যাসেও প্রয়োগ হচ্ছে।
এক সময়ে বসতবাড়ির মানে ছিল বহু মানুষের থাকার জায়গা। তবে যৌথ পরিবার ধারণা থেকে বেরিয়ে একক পরিবারের ধারণা দীর্ঘকাল ধরে গৃহীত হচ্ছে। নিজের আবাসের সীমানাও ছোট হয়ে এসেছে।
ছোট পরিসরে কম আসবাব দিয়েই নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে মানুষ ছিমছাম, হালকা বা মিনিমালিস্টিক শৈলীতে চলে এসেছে।
কম আসবাবেই প্রয়োজন পূরণ
খাবার ঘরে টেবিল-চেয়ার অবশ্যই রয়েছে, তবে এগুলো বড় আকারের নয়। খাবার টেবিলের সঙ্গে চেয়ারের বিকল্প হিসেবে একপাশে বেঞ্চ রাখা হচ্ছে। এতে জায়গা সাশ্রয় হয়। টেবিলের যে দিকটা দেয়ালের কাছে, সেখানে বাচ্চাদের জন্য বেঞ্চের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। খাবার ঘরের সঙ্গে একটি ছোট ড্রাই কিচেনও যুক্ত করা যেতে পারে।
স্যান্ডউইচ, চা, কফি তৈরির সরঞ্জামাদি সেখানে রাখা সম্ভব। সেখানে ওভেনও থাকতে পারে। খাবার ঘরের কেবিনেটের সামনে একটি কিচেন আইল্যান্ড থাকলে কাজ আরও সহজ হয়। কেবিনেটে অতিরিক্ত থালাবাটি রাখার সুযোগ তো রয়েছে। অতিথি আসলে মিষ্টান্ন পরিবেশন করার জন্য এই ড্রাই কিচেনটি কাজে লাগানো যায়। অথবা ডিনার ওয়াগনের ওপরেও মিষ্টান্ন পরিবেশন করা সম্ভব।
যেমন নকশা, তেমন রং
সরল ও সাদামাটা নকশার আসবাব আধুনিক খাবার ঘরে রাখা হচ্ছে। আয়তাকার টেবিলের পাশাপাশি বর্গাকার কিংবা গোল টেবিলও ব্যবহার করা যেতে পারে। টেবিলের কাঠের ভিত্তির ওপর মার্বেল পাথরের শোভা থাকতে পারে। অথবা কাঠের প্রাকৃতিক নকশা টেবিলের ওপরেও রেখে দেওয়া যেতে পারে। চেয়ারের জন্যও হালকা নকশা বেছে নেওয়া হচ্ছে। পুরো টেবিল কাঠের হলে ভিন্ন উপকরণের সমন্বয়ে মজবুত চেয়ারও রাখা যেতে পারে খাবার ঘরের জন্য।
চেয়ারের বসার স্থানটি বেতের হতে পারে, পিছনের অংশ কাঠের। কিংবা হাতল ও পিছনের অংশে বেত ব্যবহার করে বসার জায়গায় লেদারও যুক্ত করা যেতে পারে। ছোট পরিসরে হালকা রং অধিক মানানসই। এতে অন্দর খুব ছোট দেখায় না। ছাপা প্যাটার্ন কিংবা উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার এড়ানো হয়।
নান্দনিক অন্দর
খাবার ঘরে থাকা চাই আরাম। পুরো ঘর আলোর ঔজ্জ্বল্য কম থাকলেও যেখানে খাবার রাখা হয় বা কাজ করা হয়, সেই জায়গাগুলো আলোময় হওয়া উচিত। টেবিলের ওপর হালকা নকশার ঝুলন্ত ল্যাম্পশেডের ব্যবহার এখন জনপ্রিয়।
টেরাকোটা, বেত, এমনকি মাইল্ড স্টিল দিয়েও তৈরি হতে পারে এই ল্যাম্পশেড। চাইলে ফরমাশ দিয়ে এমন ল্যাম্পশেড গড়াও সম্ভব। এক কোণে কিছু গাছও রাখা যেতে পারে।