শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন
স্তব্ধতা
অরূপ রতন
স্তব্ধতা!
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের মতোই গিলে খেয়েছে রাত্রীর সমস্ত আলো।
অন্ধকার ঘিরে আছে এ মনের শহর।
রাত দুটো বাজে;
মোড়ের স্ট্রিট লাইটগুলো ঢিল মেরে ভেঙে দিয়েছে কে যেন,
ছুটেচলা অসংখ্য অসংখ্য প্রাণ নিদ্রায় বিভোর এখন,
ছাদের গাছগুলোও কেমন যেন ভুতুড়ে দেখায়,
একটি শব্দও আর বের হচ্ছেনা মুখ থেকে।
সিগারেটের প্যাকেট খালি, বারবার দেশলাই জ্বালিয়ে কাঠিও ফুরিয়ে গেছে, ছুঁড়ে মারলাম বাক্সটি রাস্তায়;
কোথায় গিয়ে পড়লো? কে জানে!
এককোনে টবে কয়েকটি গন্ধরাজ কেমন করে যেন তাকাচ্ছে, হাসছে, রাগ করছে, ঘৃণা বিলাচ্ছে।
কাপড় শুকানোর দড়িতে কার যেন সাদা গেঞ্জি একটা দুলছে,
বাতাস বইছে, ধাক্কা দিচ্ছে লোমকূপে।
শিহরণ!
না, কোনো অনুভূতি নেই আর।
স্তব্ধ সময় থমকে আছে –
যে বিদুষী প্রজ্ঞায়, স্নিগ্ধতায়, ভালোবেসে একবার ছুঁয়ে গেছে প্রাণ,
তারই স্মৃতি জাগছে অফুরান বৈভবে।
কোন ভুলের মাশুল গুনছি কর-টিপে!
চরিত্রহীন!
দু:খবিলাসী জীবনে শুধু একাকীত্বের ভার নিয়ে চলা,
ফিরে ফিরে আনমনে বলা –
এ দিন আমার দেখার কথা ছিলো না,
এ রাতের অন্ধকার আমাকে গিলে খাক আরও,
আমি যেন হারিয়ে যাই, বিলীন হই দিগন্তে।
এই ভুল, এই মায়া, একাকী রাতজেগে অন্ধকার নিরীক্ষণ।
অত:পর স্তব্ধতা!