শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন
বাজেট ভাগ, কাকে কত? দেখে নিন এখনই!
অনলাইন ডেস্ক
২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের উন্নয়নে ব্যয়ের নতুন রেকর্ড—২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা হলেও, আসছে অর্থবছরে উন্নয়নের চাকায় জোরাল গতি আনতে একটু ভিন্ন কৌশল নিয়েছে সরকার। এডিপির আকার কমালেও বরাদ্দের ব্যবস্থাপনায় এসেছে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস। বড় পাঁচ খাতেই বরাদ্দের ৭০ শতাংশ, যার মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত একাই পাচ্ছে এক-চতুর্থাংশের বেশি অর্থ।
জানা গেছে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ছেঁটে এবার এডিপির আকার ৩৫ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে এবং বাকি ৮৬ হাজার কোটি টাকা আসবে বৈদেশিক ঋণ থেকে। এই বাজেটে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা সরাসরি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে খরচের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যম জানায়, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৮ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ২৫.৬৪ শতাংশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পাচ্ছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ—৩২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা বা ১৪.০৮ শতাংশ। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৮ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা, যা মোটের ১২.৪২ শতাংশ। গৃহায়ন ও কমিউনিটি সেবায় বরাদ্দ ২২ হাজার ৭৭৬ কোটি (৯.৯০ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্য খাত পেয়েছে ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা (৭.৮৯ শতাংশ)।
এছাড়াও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ১৩ হাজার ৪৭২ কোটি, কৃষি খাতে ১০ হাজার ৭৯৫ কোটি, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ১০ হাজার ৬৪১ কোটি, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ৫ হাজার ৩৮ কোটি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ৩ হাজার ৮৯৪ কোটি, ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিনোদনে ৩ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ২ হাজার ৭৭৭ কোটি, সামাজিক সুরক্ষায় ২ হাজার ১৮ কোটি, সাধারণ সরকারি সেবায় ১ হাজার ৮৭৭ কোটি এবং প্রতিরক্ষা খাতে মাত্র ৪৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে প্রাথমিক এডিপি ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যা পরে সংশোধনে নেমে আসে ২ লাখ ১৬ হাজার কোটিতে। আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেট মূল এডিপির তুলনায় ৩৫ হাজার কোটি কম হলেও, সংশোধিত এডিপির চেয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। এবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ চেয়েছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন কমে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটিতে নেমেছে এবং বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনা হয়েছে ৮৬ হাজার কোটিতে, যা আগের তুলনায় ১৪ হাজার কোটি কম। ফলে, বাজেটের অঙ্ক ছোট হলেও ব্যয়ের অগ্রাধিকার এখন আরও বেশি ফলদায়ী খাতে।