সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আর মাত্র তিন দিন বাকি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। এই সময়ে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে এবং তা ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
এই সময়ের মধ্যে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস—যেমন বিকাশ, নগদ, রকেটসহ অন্যান্য সেবার লেনদেন সীমিত করা হয়েছে। টানা ৯৬ ঘণ্টায় গ্রাহকরা কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা ব্যবহার করতে পারলেও কয়েকটি সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কোন সেবা চালু থাকবে এবং কোনগুলো বন্ধ থাকবে।
ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট পুরোপুরি বন্ধ
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় অবৈধ অর্থের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে ব্যক্তিগত বা পারসোনাল অ্যাকাউন্টের সব ধরনের ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে এ সময়ে গ্রাহকরা কোনো এজেন্ট পয়েন্ট থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে বা নগদ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন না।
এ কারণেই বর্তমানে বিকাশ কিংবা নগদের অ্যাপে ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট অপশনগুলো নিষ্ক্রিয় বা আলাদা রঙে প্রদর্শিত হচ্ছে।
সেন্ড মানির সীমা নির্ধারণ
জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকরা একে অপরকে টাকা পাঠাতে পারবেন এবং ‘সেন্ড মানি’ সুবিধা চালু থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা মানতে হবে। একজন গ্রাহক প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করা যাবে। অর্থাৎ দিনে মোট ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সেন্ড মানি করা সম্ভব হবে।
মোবাইল রিচার্জ ও পেমেন্ট স্বাভাবিক থাকবে
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল—বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ—এবং কেনাকাটার পেমেন্ট আগের মতোই স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নতুন কোনো সীমা বা বিধিনিষেধ নেই। গ্রাহকরা অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বিল পরিশোধ ও কেনাকাটার মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।
শিক্ষা ও জরুরি ফি পরিশোধে ছাড়
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি এবং অন্যান্য জরুরি সরকারি সেবার ফি পরিশোধে কোনো বাধা থাকবে না। এসব লেনদেন পূর্বের নিয়মেই স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে।
কেন এই বিধিনিষেধ আরোপ
নির্বাচনকালীন সময়ে ভোট কেনাবেচা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অর্থের ব্যবহার রোধ করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই কড়াকড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতের পর থেকেই সব ধরনের এমএফএস ও সংশ্লিষ্ট সেবা আগের মতো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য বিভিন্ন এমএফএস প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার অনুরোধ জানিয়েছে।