শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:০৮ অপরাহ্ন
ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবায় ঐতিহাসিক কর ছাড় ঘোষণা!
অনলাইন ডেস্ক
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ও মোবাইল গ্রাহকদের জন্য এসেছে আশাব্যঞ্জক সুখবর। সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবাকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে কর কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় ইন্টারনেট সেবার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল অপারেটরদের টার্নওভার কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। সরকারের ধারণা, এই পদক্ষেপ ডিজিটাল সংযোগের প্রসার, বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জন্য ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা আরও সহজলভ্য করে তুলবে।
সোমবার (২ জুন) বিকেলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভিতে বাজেট প্রস্তাবনায় এসব তথ্য জানান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এখন থেকে ইন্টারনেট সেবায় ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হবে, যা আগের তুলনায় অর্ধেক কম। এতে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে, ফলে ইন্টারনেট সেবার খরচও কমবে। এতে দেশের সব শ্রেণির মানুষের কাছে ইন্টারনেট আরও বেশি প্রবেশযোগ্য হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে মোবাইল অপারেটরদের টার্নওভার কর হ্রাসের ফলে কোম্পানিগুলো তাদের আয়ের একটি বড় অংশ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে ব্যয় করতে পারবে। অর্থ উপদেষ্টার ভাষায়, এই পরিবর্তন মোবাইল গ্রাহকদের জন্য আরও উন্নত সেবা এবং সাশ্রয়ী কলরেট ও ডেটা প্যাকেজের দ্বার উন্মুক্ত করবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার বাজেটের আকার হ্রাস পেয়েছে।
তবে সংসদ ভেঙে থাকায় বাজেট নিয়ে কোনো বিতর্ক বা আলোচনা হবে না। পরিবর্তে অর্থ মন্ত্রণালয় জনগণের মতামত গ্রহণ করবে এবং তা বিবেচনায় নিয়ে বাজেটের চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করা হবে। পরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন মিললে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করে ১ জুলাই থেকে বাজেট কার্যকর করবেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।