শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন
বিদেশ থেকে টাকা আসছে, রিজার্ভ বাড়ছে—আস্থা ফিরছে প্রবাসীদের, বিনিয়োগকারীদের চোখে ভরসা ‘স্থিতিশীল রাজনীতি’
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বাড়ছে—এবার এর পেছনে আছে একাধিক ইতিবাচক কারণ, যার মধ্যে রয়েছে বাজেট সহায়তায় প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক ঋণ, রপ্তানি আয়, এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। কিন্তু সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য দিলেন দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তাঁর দাবি, সৌদি আরবের প্রবাসীরা বলছেন—তাঁরা টাকা পাঠাচ্ছেন কেবল এই সরকারের ওপর ভরসা রেখেই!
আজ বুধবার সরকারি ক্রয়–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালেহউদ্দিন এই তথ্য তুলে ধরেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনের নেপথ্য কারণগুলো ব্যাখ্যা করেন।
প্রথমত, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে ১৩৭ কোটি ডলারের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি ঋণ দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তা এসেছে বাজেট ব্যবস্থাপনায়।
তৃতীয়ত, রপ্তানি আয় এখন মোটামুটি ভালো পর্যায়ে আছে।
চতুর্থত, রেমিট্যান্স প্রবাহ আশাব্যঞ্জক।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—সালেহউদ্দিনের ভাষ্যমতে, প্রবাসীরা আগের মতো অস্বস্তিতে ভুগছেন না। আগে অর্থ পাঠিয়ে কী হবে, কোথায় যাবে—তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন। এখন তাঁরা বলছেন, “এই সরকার থাকলে টাকা পাঠাতে আর ভয় নেই।”
বিদেশি বিনিয়োগ এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি, কিন্তু সরকার তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়। বরং অর্থ উপদেষ্টা আশাবাদী—“ব্যবসায়ীদের মধ্যে মোটামুটি আস্থা ফিরেছে, এবং আমরা চেষ্টা করছি সেই আস্থা আরও মজবুত করতে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন ডলারের বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম, তখন অনেকের আশঙ্কা ছিল বাংলাদেশ হয়তো পাকিস্তানের মতো অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়বে। কিন্তু আমরা সেটা ঠেকাতে পেরেছি।” অর্থাৎ দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি এখন আরও দৃঢ় হচ্ছে বলে সরকারের বিশ্বাস।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান আন্দোলন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন উপদেষ্টা। তাঁর মতে, এই আন্দোলনে ইন্ধন জোগাচ্ছে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, যারা পূর্বের সরকারে এনবিআরের স্বচ্ছতার অভাবকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করতেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এনবিআরের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র ডিভিশন তৈরি করছি, যাতে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন আরও সুন্দরভাবে হয়।” এর মাধ্যমে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে চায় সরকার।
এক অপ্রত্যাশিত ইতিবাচক দিক হলো—ইরান-ইসরায়েল সংঘাত সত্ত্বেও বাংলাদেশ কিছু ক্ষেত্রে অর্থ সাশ্রয় করতে পেরেছে। সালেহউদ্দিন জানান, হরমুজ প্রণালির যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও নতুন দরপত্র করে ৫ থেকে ১০ ডলার কম দামে জ্বালানি কেনা সম্ভব হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৭০-৮০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে দেশের।
এছাড়াও, মরক্কো ও তিউনিসিয়ার কাছ থেকে আমদানি করা সারে সামান্য মূল্যবৃদ্ধি হলেও, সামগ্রিক খাদ্য পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে।
বৈঠকে আলোচনায় এসেছে গম কেনা নিয়েও। উপদেষ্টা জানান, নতুন চালানে ১৮-২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। চাল ও গমের বর্তমান রিজার্ভ যথেষ্ট ভালো হলেও, ৫০ হাজার টন গম মজুদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যেন সামনে কোনো খাদ্যসংকট দেখা না দেয়।
শেষ কথা—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক আস্থা ও সুশাসনের বার্তায় বাংলাদেশ অর্থনীতিতে ফিরছে গতির ছন্দ। অর্থনৈতিক সূচকে বাড়ছে আস্থা, প্রবাহিত হচ্ছে ডলার, আর জনগণও পাচ্ছে স্বস্তির নিঃশ্বাস।