শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন
প্রথম ছোট বাজেট, তবুও মানবিকতায় নজির গড়ল সরকার!
অনলাইন ডেস্ক
জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদদের পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ১০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রেখেছে সরকার। প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই বরাদ্দের মাধ্যমে একটি কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে পরিবারগুলো স্বাবলম্বী হতে পারে।
এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ঘোষিত প্রথম বাজেট। এর আগে ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ অর্থবছরে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম প্রথমবারের মতো টেলিভিশন ও বেতারে বাজেট ঘোষণা করেছিলেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট মূলত দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা, প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় লক্ষ্য রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। এবারের বাজেটে রয়েছে নানা দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন, যা গত বছরগুলোর তুলনায় একেবারেই ব্যতিক্রম।
এই বাজেটের প্রস্তাবিত মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এটি আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট (৭ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা) থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা কম। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বাজেটের আকার হ্রাস পেয়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা পূরণে সরকার ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণ এবং সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভর করবে। এবারের বাজেটের প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ওপর। একই সঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তার বিস্তৃতি, গ্রামে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে।
গত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় সাধারণত বাজেট উপস্থাপন হতো জুনের প্রথম বৃহস্পতিবার। কিন্তু এবার ঈদুল আজহা ৭ জুন পড়ায় সেই ছুটির আগেই বাজেট ঘোষণা করা হলো। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সাংবাদিকরা সরাসরি প্রশ্ন করতে পারবেন।
সংসদ না থাকায় এবার কোনো সংসদীয় বিতর্ক বা আলোচনা হবে না বাজেট নিয়ে। তবে প্রস্তাব ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করবে, যা পরবর্তীতে বাজেটের চূড়ান্ত সংস্করণে প্রতিফলিত হবে। বাজেট চূড়ান্ত হলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি একটি অধ্যাদেশ জারি করে বাজেটটি কার্যকর করবেন, যা আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়িত হবে।