শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন
ব্যক্তির ছবি নয়, এবার টাকায় দেশকে দেখুন!
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে জনসাধারণের সম্পর্ক আরও গভীর করতে বাজারে আনছে নতুন ডিজাইনের টাকার নোট। এই নতুন নোটগুলোতে দেশের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে দৃষ্টিনন্দনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সব নোটেই থাকবে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত গভর্নর আহসান হাবিব মনসুরের স্বাক্ষর, যা এই নোটগুলোকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজাইন ও নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আসছে নতুনরূপে বাংলাদেশি টাকা। এবার আর কোনো ব্যক্তির মুখচ্ছবি থাকছে না। বরং স্থান পাচ্ছে দেশের প্রতীকী ঐতিহ্য – দুর্লভ স্থাপনা, প্রাকৃতিক বিস্ময় ও সাংস্কৃতিক চেতনার নিদর্শন।
জানা গেছে, প্রথম দফায় ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট ঈদুল আজহার আগেই – জুনের ২ অথবা ৩ তারিখে – জনসাধারণের হাতে পৌঁছে যাবে। পরবর্তী ধাপে ধাপে অন্যান্য মূল্যমানের নোটও বাজারে ছাড়া হবে। শুরুতে সীমিত আকারে ছাড়া হলেও ধীরে ধীরে বাজারে চলাচল বাড়বে।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বলেন, নতুন নোটে দেশের প্রকৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা নতুন প্রজন্মকে দেশ সম্পর্কে আরও সচেতন করবে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ‘এবারের নোটগুলোতে কোনো ব্যক্তির ছবি নেই। এগুলোতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের আত্মপরিচয় ও গৌরব।’
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই নোটগুলো বাজারে ছাড়ার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে দেখানো হবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে, যিনি ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় উদ্ভাবনী চিন্তার এক অনন্য প্রতীক।
নতুন নোট নিয়ে ইতোমধ্যেই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নতুন নোটে ইতিহাস, প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকে অনন্যভাবে মেলানো হয়েছে। এগুলো কেবল মুদ্রা নয়, বরং জাতীয় পরিচয় বহনকারী এক একটি চিত্রপট।’
তিনি আরও জানান, ছাপার কাজ চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। ঈদের আগে জুনের ২ বা ৩ তারিখের মধ্যেই ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নতুন নোট বাজারে চলে আসবে। পরে অন্যান্য নোট ধাপে ধাপে ছাড়া হবে।
গণমাধ্যম ইতোমধ্যে নতুন ডিজাইনের কয়েকটি নমুনা হাতে পেয়েছে। এসব নোটে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে সুন্দরবনের রূপ, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক প্রতীক। প্রতিটি নোট যেন বাংলাদেশের পরিচয়পত্র।
১০০ টাকার নতুন নোটে রয়েছে সুন্দরবনের গল্প
নোটটির এক পাশে বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ এবং জাতীয় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জলছবি। অপর পাশে রয়েছে ম্যানগ্রোভ বনের অপার সৌন্দর্য—এক ঝাঁক চিত্রা হরিণ ও একটি বাঘ। নোটের সাদা অংশেও আছে বাঘের জলছবি।
২০০ টাকার নোটে উঠে এসেছে ধর্মীয় সহাবস্থানের প্রতিচ্ছবি
হালকা হলুদ রঙের এই নোটে এক পাশে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর্য। অপর পাশে চারটি ধর্মের মানুষ – মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ – উপাসনালয় ও পোশাকে উপস্থাপিত হয়েছে। মাঝখানে সবুজে ঘেরা বাংলাদেশের মানচিত্র।
৫০০ টাকার নোটে ফুটে উঠেছে জাতীয় চেতনা
নোটটির এক পাশে রয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ভাষা আন্দোলনের অমর স্মারক। অপর পাশে দেখা যাবে সুপ্রিম কোর্ট ভবন, দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতীক।
১০০০ টাকার নোটে একসাথে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র
নতুন ১০০০ টাকার নোটে এক পাশে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, যা মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক। অপর পাশে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন, গণতন্ত্রের মূর্তরূপ।
এই নতুন ডিজাইনের নোটগুলো শুধু অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যম নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গৌরবের বাহক হিসেবে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অর্থনীতিবিদ থেকে সাধারণ মানুষ – সবাই বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সাহসী উদ্যোগকে প্রশংসার চোখে দেখছেন।