রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন
অনেকেই মনে করেন, বেশি খাবার খাওয়ার কারণেই কেবল ওজন বৃদ্ধি পায়। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া, হরমোনের পরিবর্তন, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং খাদ্যাভ্যাস—এসব কারণও ওজন বাড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কম খাবার গ্রহণ করলেও অনেকের ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিপাক বা মেটাবলিজম হলো শরীর কীভাবে খাবার থেকে পাওয়া শক্তি ব্যবহার করে তার প্রক্রিয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের শরীরে এই প্রক্রিয়ার গতি কমে যায়। ফলে আগের মতো একই পরিমাণ খাবার খেলেও শরীর তুলনামূলক কম ক্যালরি খরচ করে এবং অতিরিক্ত শক্তি চর্বি হিসেবে জমা হতে থাকে।
এছাড়া জিনগত কারণেও বিপাকের গতি ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারও শরীর দ্রুত ক্যালরি পোড়ায়, আবার কারও ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় ওজন সহজেই বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। এর ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার, যেমন মিষ্টি, তেলেভাজা বা ফাস্টফুডের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরে স্ট্রেস-সম্পর্কিত হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা বিশেষ করে পেটের চারপাশে চর্বি জমার প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে। অনেকেই দুশ্চিন্তার সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলেন, যা ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও ওজন বৃদ্ধি হতে পারে। বিশেষ করে বিষণ্নতা, অ্যালার্জি বা নির্দিষ্ট কিছু রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের সঙ্গে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি, নারীদের পিসিওএস (PCOS) বা অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যার কারণেও অস্বাভাবিকভাবে ওজন বাড়তে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শুধু খাবারের পরিমাণ নয়, খাবারের ধরনও ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অল্প পরিমাণে খেলেও যদি খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয়, তেলেভাজা বা প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি থাকে, তাহলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।
অন্যদিকে ফল, শাকসবজি, ডাল, মাছ, মাংস এবং আঁশসমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় জীবনযাপন অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তাই কম খাবার খাওয়ার পরও যদি ওজন বাড়তে থাকে, তাহলে শুধু খাদ্যকে দায়ী না করে শরীরের অন্যান্য কারণও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।