মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন
দেশে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ওপর নতুন ও হালনাগাদ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (১৫ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ থেকে প্রকাশিত এ নির্দেশনায় ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ঋণ গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে গ্রাহকরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন। প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং গ্রাহকদের বাড়তে থাকা চাহিদা বিবেচনায় ২০০৪ সালে প্রণীত পুরোনো নির্দেশনা বাতিল করে এই আধুনিক নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে।
ঋণের সীমা নির্ধারণে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, জামানতবিহীন বা অনিরাপদ ক্রেডিট কার্ড ঋণের সর্বোচ্চ সীমা এখন ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে তরল জামানতের বিপরীতে ঋণের সীমা ২৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে কোনো গ্রাহকের ক্রেডিট সীমা নির্ধারণের আগে ব্যাংকগুলোকে তার আয়, বিদ্যমান ঋণের দায় এবং আর্থিক সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো গ্রাহকের একাধিক ব্যাংকের কার্ড থাকে, তাহলে তার মোট ঋণসীমা বিবেচনায় নিয়ে নতুন সীমা নির্ধারণ করতে হবে।
নতুন নির্দেশনায় ক্রেডিট কার্ড ঋণের সুদের হারও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক কার্যকর সুদের হার কোনোভাবেই ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। সুদ আরোপের ক্ষেত্রেও নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সুদ শুধুমাত্র বকেয়া অর্থের ওপর গণনা করা হবে, সম্পূর্ণ বিলের ওপর নয়। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করলে গ্রাহকরা আগের মতোই সুদমুক্ত সময় বা গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা পাবেন।
তবে কেনাকাটার ক্ষেত্রে সুদমুক্ত সুবিধা থাকলেও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। গ্রাহকরা তাদের মোট ক্রেডিট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নগদে উত্তোলন করতে পারবেন।
গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই নীতিমালায় বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনাও যুক্ত করা হয়েছে। কার্ড সক্রিয় করার আগে ব্যাংকগুলো কোনো ধরনের সার্ভিস চার্জ বা ফি কাটতে পারবে না। বিল পরিশোধে দেরি হলে মাত্র একবার বিলম্ব ফি আরোপ করা যাবে।
এছাড়া সুদের হার বা অন্য কোনো চার্জ পরিবর্তন করা হলে অন্তত ৩০ দিন আগে কার্ডধারীকে লিখিত বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে তা জানাতে হবে। পাওনা অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক বা রিকভারি এজেন্ট গ্রাহককে মানসিক বা শারীরিক হয়রানি কিংবা হুমকি দিতে পারবে না।
এমনকি ঋণ আদায়ের জন্য যোগাযোগ বা ফোন কল কেবল অফিস সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কার্ড পাওয়ার যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং তার হালনাগাদ ই-টিন সনদ ও পরিষ্কার সিআইবি রিপোর্ট থাকতে হবে। তবে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা প্রধান কার্ডধারীর অধীনে সম্পূরক বা সাপ্লিমেন্টারি কার্ড ব্যবহার করতে পারবে।
নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি লেনদেনে দুই ধাপের যাচাই বা টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন এবং তাৎক্ষণিক এসএমএস ও ই-মেইল সতর্কবার্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি নিরাপদ, দক্ষ ও স্বচ্ছ ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই যুগোপযোগী নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।