শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
নতুন প্রজন্মের ছন্দে নাচ এখন হাতের মুঠোয়। একটি ফোনেই শুরু হতে পারে তোমার নাচের বিশ্বজয়!
অনলাইন ডেস্ক
একটা সময় ছিল, যখন মঞ্চ বা বড় পর্দাই ছিল নাচ প্রদর্শনের একমাত্র জায়গা। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন কেবল একটি স্মার্টফোন, একটি ভালো ক্যামেরা আর কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওই যথেষ্ট—বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠার জন্য। এই যুগের নাম “ছোট পর্দার বিপ্লব”, যার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম রিলস।
আজকের তরুণ-তরুণীদের হাতের মুঠোয় থাকা এই অ্যাপগুলো শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং একেকটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম যেখানে সৃজনশীলতা, আত্মপ্রকাশ ও পারফর্মেন্সের দুনিয়া গড়ে উঠছে। বিশেষ করে নাচের জগতে এই পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো।
টিকটক ও রিলসের ট্রেন্ডি নাচগুলো সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের হয়। জটিল কোরিওগ্রাফির বদলে সহজ, মুখস্থযোগ্য স্টেপগুলোই বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে ‘চ্যালেঞ্জ কালচার’—যেখানে একটি নাচের স্টেপ বা মুভ ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে লক্ষ মানুষের মাঝে।
বিশ্বজুড়ে ‘Renegade’, ‘Savage Love’, ‘Jerusalema’ বা বাংলাদেশের ‘Kacha Badam’ গানের নাচ যেমন ভাইরাল হয়েছে, তেমনি অনেক তরুণও নিজেদের নাচের ভিডিও বানিয়ে রাতারাতি ইনফ্লুয়েন্সারে পরিণত হয়েছেন।
এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে দেখা যাচ্ছে নানা সংস্কৃতির সংমিশ্রণ। হিপহপের সঙ্গে ক্লাসিকালের ফিউশন, কেপপের স্টাইলে বাংলা গানের কোরিওগ্রাফি কিংবা ঐতিহ্যবাহী পল্লীগীতির সাথে আধুনিক এক্সপ্রেশন—সব কিছু একত্রে এসেছে এই ডিজিটাল পর্দায়। অনেকেই নিজেদের সংস্কৃতিকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করছেন যা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাত বলেন, “আমি প্রথমে শখের বসে টিকটকে নাচের ভিডিও আপলোড করতাম। এখন আমার ফলোয়ার ৫০ হাজারের বেশি। আমি কোরিওগ্রাফিও শেখাতে শুরু করেছি।”
তবে এই নতুন ধারায় সমালোচনাও আছে। অনেকেই মনে করেন, দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার লোভে নাচের গভীরতা কমে যাচ্ছে। ‘নাচ’ এখন অনেক ক্ষেত্রে কেবল ভাইরাল হওয়ার একটি মাধ্যম মাত্র। তবে সমর্থকদের মতে, এই প্ল্যাটফর্মগুলোই নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীলতার পথে টেনে আনছে, যাদের পক্ষে হয়তো কখনও মঞ্চে ওঠা সম্ভব হতো না।
ছোট ভিডিওর এই দুনিয়ায় নাচ এখন শুধু একটি শিল্প নয়, এটি এক ধরণের সামাজিক সংযোগ, আত্মপ্রকাশ এবং সৃজনশীলতার মাধ্যম। টিকটক ও রিলস প্রমাণ করেছে—নাচের মঞ্চ এখন শুধু থিয়েটার বা টিভি স্টেজে নয়, বরং আমাদের হাতের মুঠোয়।