বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
রমজান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক অমূল্য নেয়ামত। এই পবিত্র মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো— এটি তিনটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাতের এবং শেষ দশ দিন নাজাতের। প্রতিটি পর্বেই মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর বান্দাদের ওপর বিশেষ অনুগ্রহ বর্ষণ করেন।
হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের শেষ দিনে আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং বলেন, মাহে রমজান এমন এক মাস— যার শুরুতে রহমত, মাঝখানে মাগফিরাত বা ক্ষমা এবং শেষাংশে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করা হয়।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা : ১৮৮৭)
এই মাসে মুমিনদের যেসব বিষয়ে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো দোয়া কবুল হওয়া। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তিন শ্রেণির মানুষের দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না— ন্যায়পরায়ণ শাসক, ইফতারের মুহূর্তে রোজাদার এবং নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া।’ (তিরমিজি : ৩৫৯৮, ইবনে মাজাহ : ১৭৫২)
রমজানের দ্বিতীয় ১০ দিন যেহেতু মাগফিরাতের, তাই এ সময় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি মাগফিরাতের দোয়া করা উচিত।
এ ক্ষেত্রে কালবেলার পাঠকদের জন্য কোরআনে বর্ণিত কিছু দোয়ার কথা জানিয়েছেন রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম, মিরপুর-১২-এর ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনী। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো।
এক. رَبِّ اِنِّیۡ ظَلَمۡتُ نَفۡسِیۡ فَاغۡفِرۡ لِیۡ
বাংলা উচ্চারণ : রাব্বি ইন্নি জালামতু নাফসি ফাগফিরলি। (সুরা কাসাস : ১৬)
অর্থ : হে আমার রব, নিশ্চয় আমি আমার নফসের প্রতি জুলুম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।
দুই. اَنۡتَ وَلِیُّنَا فَاغۡفِرۡ لَنَا وَ ارۡحَمۡنَا وَ اَنۡتَ خَیۡرُ الۡغٰفِرِیۡنَ
বাংলা উচ্চারণ : আনতা ওয়ালিয়্যুনা- ফাগফিরলানা- ওয়ারহামনা- ওয়া আনতা খাইরুল গা-ফিরিন। (সুরা আরাফ : ১৫৫)
অর্থ : আপনি আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদের ক্ষমা করে দিন এবং আপনি উত্তম ক্ষমাশীল।
তিন . سَمِعۡنَا وَ اَطَعۡنَا غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَ اِلَیۡكَ الۡمَصِیۡرُ
বাংলা উচ্চারণ : সামি‘না- ওয়া আত্বা‘না- গুফরা-নাকা রাব্বানা- ওয়া ইলাইকাল মাসির। (সুরা বাকারা : ২৮৫)
অর্থ : আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই (নিকট) ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।