বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন
জ্বালানিতে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) বিকেলে সিলেটে নিজ বাসভবনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী বলেন, কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, দেশের সার্বিক কল্যাণের কথা বিবেচনায় রেখে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া জরুরি। আমরা যদি সচেতনভাবে ব্যবহার করি, তাহলে জ্বালানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে এর সুবিধা পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সাশ্রয় করা গেলে দেশের আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও হ্রাস পাবে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়তে দেয়নি। ক্রুড অয়েলের মূল্য ৫৫-৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১১৬ ডলারে উঠলেও সরকার আগের মূল্য ধরে রেখেছে। যতদিন সম্ভব এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে অফিস সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সবাই যদি সচেতন থাকি এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে চলি, তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। সন্ধ্যা ৬টার পর পিক আওয়ার শুরু হয়। এ সময় বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা গেলে অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব।
তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে সময় এক ঘণ্টা কম-বেশি করা হয়, যা ডে লাইট সেভিংস নামে পরিচিত। আমাদের দেশে তা চালু নেই। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবাই যদি এগুলো মেনে চলে, তাহলে শৃঙ্খলার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
এলপিজির মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবসহ যেসব দেশ থেকে এলপিজি আমদানি করা হয়, সেখানে দাম বাড়ার কারণেই দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। উৎপাদন পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলে জ্বালানি তেলের দামও স্থির থাকবে।
তিনি আরও জানান, জাপানের সঙ্গে একটি ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা এখনো পার্লামেন্টে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি অনুমোদিত হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি একাধিক দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের প্রস্তুতিও চলছে। এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এলডিসি গ্যাজুয়েশনের পরেও বাংলাদেশের পণ্য বিভিন্ন দেশে প্রেফারেন্স পাবে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশসহ অনেক প্রতিযোগী দেশের রপ্তানি কমেছে। তবে নতুন বাণিজ্য চুক্তি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে তিনি সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিলেটে পৌঁছান। পরে নগরীর পীরমহল্লা জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে মুসল্লি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির জেলা মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন, এহতেশামুল হক চৌধুরী, সাংগঠনিক সচিব নিয়াজ মো. আজিজুল করিম, আব্দুল হাদি পাভেল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।