শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
হাত উঠিয়ে মোনাজাতের পর উভয় হাতের তালু মুখে মুছে নেওয়া মুস্তাহাব। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে তিনি বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ فِي الدُّعَاءِ لَمْ يَحُطَّهُمَا حَتَّى يَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করার সময় যখন উনি তাঁর উভয় হাত উঠাতেন, তখন তা দিয়ে চেহারা না মোছা পর্যন্ত নামাতেন না। (সুনানে তিরমিজি: ৩৩৮৬)
মোনাজাতের পর হাতে চুমু খাওয়ার কোনো প্রচলন নবিজি (সা.) ও সাহাবিদের মধ্যে ছিল না। সুতরাং, এটিকে সুন্নত বা মুস্তাহাব মনে করে করা বিদআত হিসেবে গণ্য হবে এবং তা পরিহার করা উচিত।
আল্লাহর কাছে হাত না তুলেও দোয়া করা সম্ভব, তবে নিজের প্রয়োজন বা ক্ষমা প্রার্থনা করা যায়। তবে নামাজের বাইরে দোয়া করার সময় হাত ওঠানো মুস্তাহাব। একাধিক হাদিসে দোয়ার সময় হাত উঠানোর কথা এসেছে। সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ رَبَّكُمْ حَيِيٌّ كَرِيمٌ يَسْتَحْيِي مِنْ عَبْدِهِ إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا
তোমাদের রব অত্যন্ত লজ্জাশীল ও দয়ালু। বান্দা যখন তাঁর কাছে কিছু চেয়ে হাত উঠায়, তখন তিনি তাঁর হাত খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। (সুনানে তিরমিজি: ৩৫৫৬)
মালেক ইবনে য়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম) বলেছেন,
إِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ بِبُطُونِ أَكُفِّكُمْ وَلاَ تَسْأَلُوهُ بِظُهُورِهَا
তোমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করার সময় হাতের তালু ওপরে রেখে দোয়া করবে, হাতের পৃষ্ঠ ওপরে রেখে নয়। (সুনানে আবু দাউদ ১৪৭৬)
মোনাজাত আল্লাহর প্রিয় আমল। নবিজি (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে দোয়ার মতো প্রিয় আর কিছু নেই। (মুসনাদে আহমদ) কারণ দোয়ায় বান্দার দাসত্ব, বিনয়, অহংকারহীনতা ও আল্লাহর কাছে তার মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَ قَالَ رَبُّکُمُ ادۡعُوۡنِیۡۤ اَسۡتَجِبۡ لَکُمۡ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِیۡ سَیَدۡخُلُوۡنَ جَهَنَّمَ دٰخِرِیۡنَ
তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো। যারা অহংকার করে আমার ইবাদত থেকে বিমুখ থাকে, তারা শীঘ্রই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সুরা গাফির: ৬০)
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত থেকে দূরে সরে গিয়ে অহংকার করে এবং দোয়া ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।