রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
এবার এআই সেন্সরে তুরস্ক, গ্রক চ্যাটবট বন্ধ ঘোষণা!
অনলাইন ডেস্ক
তুরস্কের একটি আদালত ইলন মাস্কের কোম্পানি এক্সএআই কর্তৃক তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রাহক-এর কিছু কনটেন্ট নিষিদ্ধ করে নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেছে। বুধবার (৯ জুলাই) দেশটির সরকারি কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছে।
গ্রকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে— প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, তুরস্কের স্থপতি মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে অবমাননাকর উত্তর দিয়েছে চ্যাটবটটি। এই ঘটনার পর আঙ্কারার একটি আদালত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
২০২২ সালে ওপেনএআই’র চ্যাটজিপিটি আসার পর থেকে এআই চ্যাটবটগুলোর রাজনৈতিক পক্ষপাত, ঘৃণাভাষণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে গ্রকের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষী কনটেন্ট ও হিটলার-মুগ্ধতা ছড়ানোরও অভিযোগ উঠেছে।
আঙ্কারার প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটরের দফতর জানিয়েছে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এটি তুরস্কের ইতিহাসে এআই কনটেন্টের ওপর প্রথম নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় প্রতীক বা নেতা অবমাননার জন্য সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এক্স কিংবা ইলন মাস্কের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাদের প্ল্যাটফর্মেও এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত কোনো বার্তা প্রকাশ হয়নি।
গত মাসে এক বক্তব্যে ইলন মাস্ক স্বীকার করেন, গ্রক এখনো অসম্পূর্ণ ডেটার ওপর ভিত্তি করে কাজ করছে এবং অনেক অনুপযুক্ত উত্তর দেয়। তিনি ভবিষ্যতে মডেলটি আরও উন্নত করার আশ্বাসও দেন।
তবে গ্রকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তুর্কি ভাষায় নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরে এরদোয়ান ও আতাতুর্ক সম্পর্কে বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরি করেছে। এসব পোস্টের ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজিস অথরিটি (বিটিকে) গ্রক-এ প্রবেশাধিকার সীমিত করে।
ইস্তানবুল বিলগি ইউনিভার্সিটির সাইবার আইন বিশেষজ্ঞ ইয়ামান আকদেনিজ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রশাসন প্রাথমিকভাবে গ্রকের অন্তত ৫০টি কনটেন্টকে তদন্তের আওতায় এনেছে। আদালত শুধু গ্রক নয়, অনলাইন সেন্সরশিপে তুরস্ককে নতুন এক মাত্রায় নিয়ে গেছে।
গত কয়েক বছরে তুরস্কে সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নজরদারি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন এবং অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে সরকার আইনও পরিবর্তন করেছে, এমনকি পোস্টের কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করতেও দ্বিধা করেনি।
সমালোচকরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ মূলত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করে। তবে সরকার বলছে, অনলাইনে জাতীয় মর্যাদা ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখতে এসব ব্যবস্থা একান্ত প্রয়োজন।