শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ন
ইসরায়েলি হামলায় উত্তাল লোহিত সাগর, হুতিরা বলছে পাল্টা!
অনলাইন ডেস্ক
ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত পশ্চিমাঞ্চলে লোহিত সাগরসংলগ্ন একাধিক কৌশলগত স্থাপনায় সমন্বিত বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রোববার (৬ জুলাই) হুদাইদা প্রদেশে এসব হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম শাফাক নিউজ।
হুতি-সমর্থিত আল-মাসিরাহ টিভির দাবি, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো হুদাইদা শহর ছাড়াও রাস ইসা, আস-সালিফ বন্দর এবং রাস কাতিব বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায়। উল্লেখ্য, এসব স্থাপনা লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হুতি বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি করেছে। সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বলেন, স্থানীয়ভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ও শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে তারা কয়েকটি ইসরায়েলি জঙ্গিবিমানকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। যদিও স্বাধীনভাবে এসব দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এখনও পর্যন্ত হতাহত কিংবা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিচাই আদ্রেই এক্সে লিখেছেন, হামলার লক্ষ্য ছিল হুতিদের ইরান থেকে অস্ত্র সরবরাহের রুট ও লোহিত সাগরে সশস্ত্র অভিযানের ঘাঁটিগুলো।
তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের নভেম্বরে হুতিদের দখলে যাওয়া ‘গ্যালাক্সি লিডার’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। ওই জাহাজটি জাপানি পরিচালিত হলেও মালিকানা ছিল ইসরায়েলি সংযোগে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের।
রোববার আরেক ঘটনায়, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায়, লোহিত সাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র নৌকার হামলার শিকার হয়। আরপিজি ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে চালানো এ হামলা নিরাপত্তা দলের জবাবে ব্যর্থ হয়, হামলাকারীরা পিছু হটে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করেছে—সামুদ্রিক পথে হুতি হামলা ও বন্দরে ইসরায়েলি আক্রমণ গোটা অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংকটের দ্বার খুলে দিতে পারে।