সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন
মার্কিন বিমান নির্মাতা Boeing থেকে ২০০টি বিমান কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে চীন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই অর্ডারের পরিমাণ বেড়ে ৭৫০টি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০০টি বিমানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ভবিষ্যতে অর্ডারের সংখ্যা ৭৫০ পর্যন্ত যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, এসব উড়োজাহাজে GE Aerospace–এর ইঞ্জিন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন মডেলের বিমান সরবরাহ করা হবে কিংবা ডেলিভারির সম্ভাব্য সময়সূচি কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
এখন পর্যন্ত চীনা কর্তৃপক্ষ কিংবা বোয়িং আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তির ঘোষণা দেয়নি। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর বাণিজ্যিক চাপ কাটিয়ে চীনের বাজারে বোয়িংয়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা Kelly Ortberg সম্প্রতি ট্রাম্পের বেইজিং সফরে মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের অংশ ছিলেন। ওই সফরে চীনের বাজারে বিভিন্ন মার্কিন পণ্য ও সেবার বিক্রি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষিত ২০০ বিমানের মধ্যে কতগুলো নতুন অর্ডার এবং কতগুলো পূর্বের প্রতিশ্রুতির আওতায় রয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। অতীতেও বিদেশি নেতাদের সফরের সময় চীন নতুন ও পুরোনো অর্ডার একসঙ্গে ঘোষণা করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বড় এই সম্ভাব্য চুক্তি চীনের দ্রুত বিস্তৃত বিমান পরিবহন খাতকে আরও শক্তিশালী করবে। কারণ দেশীয় নির্মাতা COMAC–এর সি৯১৯ উড়োজাহাজ এখনো প্রত্যাশিত উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারেনি।
এ ছাড়া ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী Airbus–এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায়ও বোয়িংকে বাড়তি সুবিধা দেবে এই চুক্তি বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।
বিমানবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান IBA–এর হিসাব অনুযায়ী, ২০০টি বিমানের সম্ভাব্য এ চুক্তির আর্থিক মূল্য হতে পারে ১৭ থেকে ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।