শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন
মামুন মোল্লা, খুলনা জেলা প্রতিনিধি
“থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দেবেন নিরাপদে”— এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ শুরু করেছে এক ব্যাপক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। প্রায় দেড় লক্ষ সদস্যকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে খুলনার শিরোমণিস্থ ৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণের ৪র্থ পর্যায়ের ৪র্থ ধাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন খুলনা ৩ এপিবিএনের অধিনায়ক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) এম এম সালাহউদ্দীন। তিনি বলেন, “নির্বাচন পরিচালনা শুধু দায়িত্ব নয়, এটি একটি বিশ্বাসের বিষয়। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”
তিনি আরও জানান, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্ববোধ, আচরণবিধি, এবং আধুনিক সরঞ্জাম যেমন বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রতিটি কার্যক্রম হয় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা ৩ এপিবিএনের সহ-অধিনায়ক পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ (পিপিএম), অ্যাডিশনাল এসপি মো. মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে ১৩০টি ভেন্যুতে একযোগে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। খুলনার শিরোমণিস্থ এপিবিএনে তিন দিনব্যাপী ৪র্থ ধাপের প্রশিক্ষণ চলবে ১১ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে অংশ নিচ্ছেন ৩ এপিবিএনের ৩০ জন ও আরআরএফ খুলনার ২০ জন সদস্য।
দক্ষতা উন্নয়নমূলক এ কর্মসূচিতে মোট ২৮ ব্যাচে ৩ এপিবিএনের ৭৪২ জন এবং আরআরএফ খুলনার ৫২৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেবেন। অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকরা নির্বাচনকালীন দায়িত্ব, আচরণবিধি, বডি ক্যামেরা পরিচালনা ও অস্ত্র ব্যবহারে বাস্তব প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।
অধিনায়ক এম এম সালাহউদ্দীন বলেন, “প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি দক্ষ বাহিনী তৈরি করা, যারা নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালনকালে পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করবে।”