শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন
মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ, খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ি জেলা সদরে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা ৮ম শ্রেণির মারমা কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষার পর কোনো ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে ঘটনার পর অনুষ্ঠিত মেডিকেল পরীক্ষা রিপোর্টে ১০টি সূচকের সবকটিতে স্বাভাবিক লেখা রয়েছে। প্রতিবেদনে নেতৃত্ব দেন খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ জয়া চাকমা। এছাড়া চিকিৎসক দলের অন্য সদস্য ছিলেন মোশারফ হোসেন ও নাহিদা আকতার।
জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার ছাবের আহম্মেদ জানান, প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং এটি তদন্ত কর্মকর্তার হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরেফিন জুয়েলও প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে জুম্ম ছাত্র-জনতার মুখপত্র কৃপায়ন ত্রিপুরা এই মেডিকেল রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি সরকারের মনগড়া প্রতিবেদন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে এত দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া প্রশ্নবিদ্ধ।
এ ঘটনার পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে প্রাইভেট পড়ার পথে ফেরার পথে খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালা এলাকার কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে আহত অবস্থায় একটি ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শয়ন শীল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর থেকে জুম্ম ছাত্র-জনতার আহ্বানে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ চলছিল। শনিবার ও রোববার বিক্ষোভ ও সহিংসতায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও গুইমারা উপজেলা। এই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জুম্ম ছাত্র-জনতার পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-দৌড় সংঘটিত হয়। হামলায় স্থানীয় কয়েকটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়, গুলিতে নিহত হয় তিন মারমা যুবক এবং সেনাবাহিনীর মেজরসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।