শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
ক্ষমতার শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আগামী জানুয়ারিতে নতুন প্রেসিডেন্টের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন তিনি। এ সময় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আরও উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন। ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন তিনি। এর ফলে ইউক্রেন মার্কিন অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় হামলা চালিয়েছে। এর ঠিক পরেই এবার ব্রিটিশ দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় হামলা করেছে ইউক্রেন।
বুধবার (২০ নভেম্বর) গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ইউক্রেন প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের তৈরি দূরপাল্লার শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ায় হামলা চালিয়েছে। মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরের দিনই এ আক্রমণ করা হয়েছে।
টেলিগ্রামের রাশিয়ার যুদ্ধকেন্দ্রিক কিছু অ্যাকাউন্টে এই হামলার ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আওয়াজ শোনা গেছে। অন্তত ১৪টি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু বিস্ফোরণের আগে সতর্কবার্তার সাইরেন শোনা গেছে। ভিডিওতে আবাসিক এলাকাগুলোর কাছ থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
কুরস্কের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা ওই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের এক মুখপাত্র বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হবে না।
এর আগে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ইউক্রেন নিজের ভূখণ্ডের ভেতরে শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। তবে লন্ডন বেশ কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তাদের অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতির জন্য ওয়াশিংটনকে চাপ দিয়ে আসছে।
ব্রিটিশ তৈরি শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত ১৬ দশমিক সাত ফুট লম্বা হয়ে থাকে। এর রেঞ্জ ২৫০ কিলোমিটার এবং ওজন প্রায় ১,৩০০ কেজি। ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড দেখতে কলমের মতো আকৃতির। শত্রুদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার জন্য এ ক্ষেপণাস্ত্রের বাজারমূল্য প্রায় এক মিলিয়ন ডলার।
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেন প্রথমবারের মতো রাশিয়ার ভূখণ্ডে আক্রমণ করেছে। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে এই আক্রমণ হয়। একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর তা থেকে আগুন ধরে যায়। দ্রুত সে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেন মঙ্গলবার সকালে আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) ব্যবহার করে রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলে আক্রমণ চালিয়েছে। ৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। এছাড়া ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি সামরিক স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।