শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন
বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খানকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বাংলাদেশি পরিচয় নিয়ে কোনো প্রমাণ নেই বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী। এর আগে রবিবার মুম্বাই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তের নাম মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম শেহজাদ। পুলিশ দাবি করেছিল যে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক হতে পারেন।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) আইনজীবী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক, এমন কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। বরং তিনি পরিবারের সঙ্গে সাত বছরের বেশি সময় ধরে মুম্বাইতে বসবাস করছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
আইনজীবী সন্দ্বীপ শেখানি বলেন, “শেহজাদকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। আদালত পুলিশকে এই সময়ের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু তার বাংলাদেশি পরিচয়ের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের দাবি যে তিনি ছয় মাস আগে ভারতে এসেছেন, সেটাও ভুল। এটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৩এ ধারার লঙ্ঘন। এই মামলায় সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়নি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার পদ্ধতিগত দিকগুলোতে ত্রুটি রয়েছে। রিমান্ডে নেওয়ার কারণেও অসঙ্গতি আছে বলে তিনি দাবি করেন।
আইনজীবী শেখানি বলেন, “এই মামলায় তদন্তের ফাঁকফোকর রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নোটিশ জারি করা হয়নি। রিমান্ড কপিতে বা এফআইআরে কোথাও জীবনের হুমকির উল্লেখ নেই। অথচ পুলিশের দাবি অনুযায়ী ধারাগুলো যুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে হত্যার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।”
অভিযুক্তের আরেক আইনজীবী দীনেশ প্রজাপতিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, “পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেছিল। তবে যে কারণ দেখানো হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। অভিযুক্তের কাছ থেকে কিছু উদ্ধার করা হয়নি। পুলিশ তাকে বাংলাদেশি প্রমাণ করার মতো কোনো নথি আদালতে পেশ করেনি। তবু আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেছেন।”
মুম্বাইয়ের আদালত শেহজাদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করে।
মুম্বাই পুলিশ এর আগে বলেছিল, তাদের ধারণা অভিযুক্ত ব্যক্তি ছয় মাস আগে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তিনি অবৈধভাবে প্রবেশের পর নিজের নাম পরিবর্তন করে বিজয় দাস নাম ধারণ করেন এবং মুম্বাইয়ের আশপাশে বসবাস করতেন।
এর আগে, মুম্বাইয়ে নিজের বাসায় অনুপ্রবেশকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হন বলিউড তারকা সাইফ আলি খান। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।