শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ন
অন্তর্বর্তী সরকার জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে দেশের অধিকাংশ মানুষের মনের কথা তুলে ধরেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অতীতে চুরি হওয়া তহবিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সম্পদ এবং সম্পত্তির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হবে। যদি কারো বিরুদ্ধে আত্মসাৎ প্রমাণিত হয়, তাহলে আমরা আশা করব সেই সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আসবে, যেখানে তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।
অধ্যাপক ইউনূস গণমাধ্যমে বলেছেন, টিউলিপ সিদ্দিক যে সম্পদ লন্ডনে ব্যবহার করছেন, তার প্রকৃত উৎস সম্পর্কে হয়তো তিনি আগে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন না। তবে এখন তিনি জানেন এবং বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
অন্তর্বর্তী সরকার পাচার হওয়া তহবিলের তদন্ত ও পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য এই ধরনের সহযোগিতা অপরিহার্য।
আমরা আশা করি এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে যুক্তরাজ্যসহ সব বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ এই অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশি জনগণের পাশে থাকবে। দুর্নীতি এমন এক অপরাধ যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ক্ষতি করে এবং কেবল দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং তাদের প্রিয়জনদের সুবিধা দেয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ৫ বিলিয়ন ডলার অপব্যবহার সম্পর্কিত তদন্ত পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দুর্নীতির গভীরতা প্রকাশ করে। জনসাধারণের সম্পদের এমন অপব্যবহার কেবল বাংলাদেশের জনগণের ক্ষতি করেনি, বরং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকেও বাধাগ্রস্ত করেছে।
বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া তহবিল প্রকৃতপক্ষে দেশের জনগণের সম্পদ। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।