শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩১ অপরাহ্ন
গত চার মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের সময় মোট ১২৩ জন সেনা সদস্য হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেনাসদরের মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে বনানীতে সেনা অফিসার্স মেসে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য দেন।
ইন্তেখাব হায়দার খান জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার অফিসারদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল, যা গত ১৫ নভেম্বর আবারও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে। এই ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সব স্তরের সদস্য সচেষ্ট রয়েছে। গত ২০ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করতে গিয়ে মোট ১২৩ জন সেনা সদস্য হতাহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন অফিসার শাহাদাৎ বরণ করেছেন এবং ৯ জন অফিসারসহ ১২২ জন আহত হয়েছেন।
১৩ নভেম্বর থেকে চলমান কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ২৪টি অবৈধ অস্ত্র এবং ৩৬৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৪০টি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এবং ১৮টি সড়ক অবরোধ মোকাবিলা করেছে। পাশাপাশি কারখানাগুলো চালু রাখতে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিজিএমইএর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছে। শিল্পাঞ্চলের বাইরেও ৬৩টি বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১টি সরকারি সংস্থা, ৬টি রাজনৈতিক কোন্দল এবং ৪০টি অন্যান্য ঘটনা অন্তর্ভুক্ত।
যৌথ অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ২২৮ জন মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১ হাজার ৩২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কঠিন চীবরদান উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মিলে কাজ করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ৪৪৪টি বৌদ্ধ বিহারে কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই উৎসব উদযাপিত হয়েছে।
১৫-১৬ এবং ২০ নভেম্বর গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, পিরোজপুর এবং পটুয়াখালী জেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাসমেলা ও নবান্ন উৎসবের নিরাপত্তায় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া বরিশালের জগদ্ধাত্রী পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থী অংশ নেন।
কর্নেল ইন্তেখাব বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসায় সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৪৩০ জনকে দেশের বিভিন্ন সিএমএইচে চিকিৎসা দিয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ জন এখনো চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত দেড় হাজারেরও বেশি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৩টি গুরুতর। গুরুতর আহত ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা অরাজকতা প্রতিরোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, বিদেশি কূটনীতিক ও দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিল্পাঞ্চল রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, চিহ্নিত অপরাধী গ্রেপ্তার, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি বজায় রাখা এবং কক্সবাজারের এফডিএমএন ক্যাম্পে নিরাপত্তা প্রদানে কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখছে।