শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ন
দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২৪ সালে ২০২৩ সালের তুলনায় বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর ৬ হাজার ৩৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৫৪৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ১২ হাজার ৬০৮ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
এই প্রতিবেদনটি শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। যাত্রী কল্যাণ সমিতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনার হার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা বেড়েছে ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
গত বছর রেলপথে ৪৯৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ৫১২ জন মারা গেছেন এবং ৩১৫ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১১৮টি দুর্ঘটনায় ১৮২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, ২৬৭ জন আহত হয়েছেন এবং ১৫৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৬ হাজার ৯৭৪টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ২৩৭ জন নিহত এবং ১৩ হাজার ১৯০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনটি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা একটি ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের ফল পরিবহন খাতে যথাযথভাবে প্রভাব ফেলেনি।
তিনি সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সিঙ্গাপুর প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনার হার এক শতাংশে নামিয়ে এনেছে। সেখানে রাস্তা সঠিকভাবে বানানো, চালকের লাইসেন্স, সিগন্যালের যথাযথতা এবং সবাই নির্দেশনা অনুসরণ করা নিশ্চিত করে দুর্ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার দিকে কাজ করা হচ্ছে। এটি দেখায় যে, মানুষ চাইলেই সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব, কিন্তু সরকার ও বাসমালিকরা এ বিষয়ে উদাসীন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, গত বছর ২ হাজার ৩২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। এসব দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৫৭০ জন নিহত এবং ৩ হাজার ১৫১ জন আহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩০ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং মোট আহতের ২৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
গত ১০ বছরে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ১৫ লাখ থেকে বেড়ে ৬০ লাখ হয়েছে। এ ছাড়া নতুন ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি ছোট যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। এসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহভাবে বেড়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী, প্রতিবেদনটি বলছে, ৩৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২১ দশমিক ৬৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ৩৫ দশমিক ৮১ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া, ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঢাকা মহানগরে, ১ দশমিক ২০ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরে এবং ০ দশমিক ৭৩ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকারের পরিবর্তন হলেও পরিবহনের কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সড়কে ফিটনেসহীন যানবাহন চলছে, আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছে, বিআরটিএ রাজস্ব আদায় করছে, আর ট্রাফিক বিভাগ জরিমানা আদায়ে প্রতিযোগিতা করছে। এর ফলে দুর্ঘটনার ঘটনার উপাদান সড়কে বিছিয়ে রাখা হচ্ছে।
মোজাম্মেল হকের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা প্রকৌশলগত ত্রুটির কারণে ঘটে এবং এর সমাধানও প্রকৌশলগত হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি তাওহীদুল হক এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মঞ্জুর হোসেন।