শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় ৭ ও ৩ বছর বয়সী দুই ভাই রোহান এবং মুছাকে গলা কেটে হত্যার পর ৪০ বছর বয়সী বাবা আহাদ মিয়া আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাকে আহত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে। ১৬ নভেম্বরের এই ঘটনাটি শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আহাদ মিয়া বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরানো ভবনের তৃতীয় তলায় নাক-কান-গলা বিভাগে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শ্বাসনালী কাটা গেছে এবং তার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলেও এখনও শঙ্কামুক্ত নয়।
এই ঘটনায় নিহত দুই শিশুর মা রোজিনা বাদী হয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে একমাত্র আসামি তার স্বামী আহাদ মিয়া।
পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহ এবং আর্থিক সমস্যা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
১৭ নভেম্বর রাতে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আহাদ মিয়া পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন আছেন। তার গলার কয়েকটি জায়গায় ব্যান্ডেজ বাঁধা। নিজের গলায় ছুরি চালানোর কারণে তিনি কথা বলতে পারছেন না এবং চোখে চোখে তাকাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, শনিবার পুলিশ তাকে গলা কাটা অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার গলায় অনেক সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা হয়।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের পর রোজিনা তার স্বামী আহাদ মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আহাদ মিয়া ঋণগ্রস্ত ছিলেন এবং তার স্ত্রী রোকেয়া গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। আহাদ মিয়া বারবার তার স্ত্রীর এই কাজ বন্ধ করার কথা বললেও রোকেয়া তা শোনেননি, ফলে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। আর্থিক সংকট এবং পারিবারিক অশান্তি নিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন আহাদ মিয়া, যার ফলস্বরূপ তিনি তার দুই সন্তানকে হত্যা করেন এবং পরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
এছাড়াও, পুলিশ তদন্ত করে দেখছে হত্যাকাণ্ডের পিছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না। আহাদ মিয়া সর্বশেষ নিরাপত্তা রক্ষীর চাকরি করতেন এবং তার আগে বিভিন্ন কাজ করেছেন যা জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন ছিল।