সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন
নেত্রকোনার পূর্বধলায় নিজ বাড়ি থেকে এক গৃহবধূ ও তাঁর সাত বছরের মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশে বসে কাঁদছিল ওই গৃহবধূর দুই বছরের ছোট মেয়ে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের চুরাটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া রূপালী আক্তার ও তাঁর মেয়ে রুবাইয়া তাবাসসুম ওই গ্রামের মো. মোস্তাকিনের স্ত্রী ও মেয়ে। মোস্তাকিন ময়মনসিংহের ভালুকায় ফায়ার সার্ভিসে সিপাই হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে তিনি প্রেষণে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ে রয়েছেন।
পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত দুজনের শরীরে একাধিক স্থানে আগুনে পোড়া ও কালো দাগের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে রূপালীর বাবা আবদুর রশিদের অভিযোগ, রূপালীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর দাবি করছেন, কিন্তু এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আট বছর আগে মোস্তাকিনের সঙ্গে একই উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের বারহা গ্রামের আবদুর রশিদের মেয়ে রূপালীর বিয়ে হয়। এ দম্পতির দুই কন্যাসন্তান। সোমবার রাতে রূপালী তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমাতে যান। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘরে গিয়ে রূপালী ও বড় মেয়ে রুবাইয়ার লাশ বিছানায় দেখতে পান। পাশে ছোট মেয়ে তাহমিনা বসে কাঁদছিল।
রূপালীর বাবা আবদুর রশিদ অভিযোগ করেন, পারিবারিক কলহের জেরে তাঁর মেয়ে ও নাতিকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি মোস্তাকিন গ্রামে জমি কিনে তার একাংশ ছোট ভাইকে দেওয়ার পর থেকে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। দুই সপ্তাহ আগে মোস্তাকিন রূপালীকে মারধর করে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন। চার-পাঁচ দিন আগে রূপালী আবার শ্বশুরবাড়ি ফিরে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে ও নাতিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে। রূপালীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা করব।’
অন্যদিকে, রূপালীর শাশুড়ি আমেনা খাতুন জানান, মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে তিনি ঘুম থেকে উঠে রূপালী ও তাঁর মেয়েদের দেখতে না পেয়ে তাঁদের ডাকতে যান। গিয়ে দেখেন, রূপালী ও তাঁর বড় মেয়ে খাটে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তাঁদের পাশে ছোট মেয়ে জীবিত রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ‘লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। রূপালীর ডান হাতে আগুনের পোড়া দাগ, দুই গোড়ালির ওপরে ও দুই কবজির ওপরে কালো দাগ রয়েছে। তাঁর মেয়ের শরীরেও একই ধরনের দাগ দেখা গেছে।’ সিআইডি ও পূর্বধলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় এনে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।