সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৫ অপরাহ্ন
যশোরে হঠাৎ করে হাড় কাঁপানো শীতের তীব্রতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। সকাল থেকে বেলা গড়ালেও ঘর থেকে বের হতে কষ্ট হচ্ছে অনেকের। প্রচণ্ড শীতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। টানা তিন থেকে চার দিন ধরে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন যশোরের বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, যা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুরের দিকে সূর্যের দেখা মিললেও রোদের উষ্ণতা ছিল খুবই কম। উত্তরের ঠান্ডা বাতাসে কাঁপছে মানুষসহ প্রাণিকুল। কুয়াশা এতটাই ঘন যে ঝিরঝির বৃষ্টির মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও সকাল থেকেই উত্তরের হাওয়া বইছে। সঙ্গে ঘন কুয়াশা শীতের প্রকোপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবীরা।
শহরের ধর্মতলা এলাকার রিকশাচালক শিমুল হোসেন বলেন, প্রচণ্ড শীতে রিকশা চালাতে গিয়ে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। ঠিকমতো ব্রেক ধরা যায় না, এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছে।
খড়কি এলাকার রিকশাচালক নূর হোসেন বলেন, গত কয়েক দিনে শীতের যে মাত্রা বেড়েছে, তাতে রাস্তায় রিকশা চালানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে না, তাই বাধ্য হয়েই বের হতে হচ্ছে।
শহরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে সকালে সন্তানকে স্কুলে পাঠানো নিয়েও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। এই ঠান্ডায় শিশুদের সর্দি-জ্বরের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়ায় ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্বর, হাঁচি, কাশি এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা শীতকালীন রোগ এড়াতে গরম পানি পান করা এবং পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে, ফলে শীতের অনুভূতিও বাড়তে পারে।