শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মো. তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শহীদ অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের কবর জিয়ারত শেষে ঢাকায় ফেরার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ইউনিয়নের হাজী রাস্তার মোড়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
লোহাগাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আলিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত কার্যক্রম চলছে।
এর আগে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মহানগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা শেষে সাইফুল ইসলাম আলিফের মরদেহ দাফনের পর তারা কবর জিয়ারত করেন। এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) ছিলেন। তিনি লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে। ২০১৮ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন এবং পরে হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত হন।
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের আইনজীবীরা আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার জেলা আইনজীবী সমিতির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। নগরের কোতোয়ালি থানায় এ বিষয়ে দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বিকেলে সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। ওই সংঘর্ষে পুলিশের ১২ জন সদস্যও আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।