মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
কুকুরের শরীর নাপাক নয়। কুকুরের শরীর বা তার ওপর পড়া কাপড় নাপাক হবে না। যদি পবিত্র পানি কুকুরের শরীরে লাগে এবং শরীর ভিজে, তবে তার ওপরও কাপড় বা শরীর নাপাক হবে না। তবে কুকুরের লালা নাপাক। কুকুর যদি কামড়ে ধরে, জিহ্বা দিয়ে চাটে বা অন্য কোনোভাবে কুকুরের লালা শরীরে বা কাপড়ে লাগলে তা নাপাক হয়ে যাবে।
কোনো প্রয়োজন ছাড়াই শখের জন্য কুকুর পোষা ইসলামে নিষিদ্ধ। তবে কিছু নির্দিষ্ট কাজে যেমন বাড়ি, ক্ষেত-খামার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষা, অপরাধের উৎস অনুসন্ধান বা অপরাধী চিহ্নিত করতে কুকুর পোষা জায়েজ। রাসুল সা. বলেছেন,
مَنِ اقْتَنَى كَلْبًا، لَيْسَ بِكَلْبِ صَيْدٍ، وَلَا مَاشِيَةٍ، وَلَا أَرْضٍ، فَإِنّهُ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِهِ قِيرَاطَانِ كُلّ يَوْمٍ। যে ব্যক্তি শিকার, গবাদি পশু বা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর পোষে, তার প্রতিদিন দুই কিরাত পরিমাণ সওয়াব কমে যায়। (সহিহ মুসলিম: ১৫৭৫)
এই হাদিসে এবং অন্যান্য হাদিসে সওয়াবের পরিমাণ বোঝাতে ‘কিরাত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। ইমাম নববি (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, “কিরাত” একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ, যা আল্লাহ তাআলা জানেন। অর্থাৎ বিনা প্রয়োজনে কুকুর পোষলে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী কিছু পরিমাণ সওয়াব কমে যেতে পারে।
তবে আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শন, কুকুরকে খাবার বা পানি দেওয়া, বিপদে পড়লে সাহায্য করা সওয়াবের কাজ। কুকুরকে কোনো ধরনের কষ্ট দেওয়া, ক্ষতি না করলেও হত্যা করা গুনাহ। হাদিসে এসেছে, এক সময় বনি ইসরাইলের এক ব্যাভিচারী নারী একটি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়েছিল, এবং আল্লাহ তাকে তার সব পাপ মাফ করে দিয়েছিলেন। রাসুল (সা.) বলেন, এক তৃষ্ণার্ত কুকুর কূপের পাশে ঘুরছিল। তার প্রাণ ফুরিয়ে আসছিল। বনি ইসরাইলের এক ব্যাভিচারী নারী মোজা খুলে তাতে পানি ভরে কুকুরটিকে পান করায়, যার ফলে তার সব পাপ ক্ষমা করা হয়। (সহিহ বুখারি: ৩৪৬৭)