মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন
দিন দিন ঢাকার বায়ুদূষণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। বিশেষ করে শীত মৌসুম শুরু হলেই বাতাসের মান আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। চলতি বছর শীতের প্রারম্ভেই টানা কয়েকদিন ধরে ঢাকার বাতাসের মান ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সকালেও রাজধানীর বায়ুর মান ছিল একই অবস্থায়।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার সময় আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার বিশ্বের শহরগুলোর বায়ুদূষণের তালিকা প্রকাশ করে।
তালিকায় দেখা যায়, একই সময়ে ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) স্কোর ২৪২ ছিল, যা বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে প্রথম অবস্থানে রেখেছে। এই স্কোর নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থদের ঘরের ভেতরে থাকার পাশাপাশি অন্যান্য নাগরিকদের বাইরের কাজকর্ম সীমিত রাখার পরামর্শ দেয়া হয়।
এদিকে, ১৯০ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি। এটি ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাই সেখানেও নাগরিকদের জানালা বন্ধ রেখে এবং ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক পরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি শহর, যার একিউআই স্কোরও ১৮৬। একই স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের আরেক শহর লাহোর।
প্রসঙ্গত, আইকিউএয়ার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, যারা নিয়মিত বিশ্বের বায়ুদূষিত শহরের তালিকা প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটি একিউআই সূচকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা দূষিত বা নির্মল, সে সম্পর্কে জনসাধারণকে তথ্য ও সতর্কতা প্রদান করে।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে তা ভালো বলে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর মাঝারি মানের বাতাস বোঝায়। তবে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরের বাতাসও ঝুঁকিপূর্ণ। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর যদি ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকে, তাহলে একে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। এমন পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, একিউআই যদি ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকে, তখন তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা শহরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে।
বায়ুর মান নির্ধারণে মূলত পাঁচ ধরনের দূষণ উপাদান বিবেচনা করা হয়: বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)। বায়ুদূষণ মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি সকল বয়সের মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। তবে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর।