সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন
আমাদের অনেকেই কিডনির সমস্যাকে তেমন গুরুত্ব দিই না। অথচ এই অঙ্গটি নীরবে নীরবে শরীরের ভেতরে বড় ধরনের ক্ষতি করে ফেলতে পারে। কিডনি মূলত শরীরের প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে কাজ করে—রক্ত পরিষ্কার করে, বিষাক্ত বর্জ্য বের করে দেয়, লবণ ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রক্ত তৈরির প্রক্রিয়াতেও সহায়তা করে।
কিন্তু কিডনি যখন ঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তখন শরীর আগেভাগেই কিছু সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে। এসব লক্ষণ চেনা থাকলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া অনেক সহজ হয়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কিডনি সমস্যায় শরীর কীভাবে সাড়া দেয়।
সবসময় দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভব
কিডনি ঠিকমতো রক্ত পরিশোধন করতে না পারলে শরীরে টক্সিন জমে যায়। এর ফলে সারাক্ষণ অবসাদ, মাথা ভার লাগা এবং কাজে মনোযোগ কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রক্তস্বল্পতাও এর সঙ্গে যুক্ত থাকে।
ঘুমের ব্যাঘাত
রক্তে জমে থাকা টক্সিন ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয় বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যায়। স্থূলতা ও অনিদ্রা—দুটিই দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যাওয়া
খনিজ ও পুষ্টির ভারসাম্য রক্ষায় কিডনির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক ও ফেটে যেতে পারে, যা অনেক সময় গুরুতর কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
বারবার প্রস্রাবের চাপ
বিশেষ করে রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ কিডনি রোগের লক্ষণ হতে পারে। কিডনির ফিল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হলে এমন সমস্যা দেখা দেয়। তবে ইউরিন ইনফেকশন বা প্রোস্টেট সমস্যাতেও এটি হতে পারে।
প্রস্রাবে রক্ত দেখা
সুস্থ কিডনি রক্তকণিকা শরীরেই ধরে রাখে। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই কণিকাগুলো প্রস্রাবে চলে আসতে পারে। এটি কিডনি পাথর, সংক্রমণ বা টিউমারের লক্ষণও হতে পারে।
প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা
ডিমের সাদা অংশের মতো ফেনা বা বাবল দেখা গেলে বুঝতে হবে প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ কিডনির ছাঁকনি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
চোখের নিচে ফোলা ভাব
চোখের চারপাশে হঠাৎ ফোলাভাব মানে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন ধরে রাখতে পারছে না, যা কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া
কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে সোডিয়াম জমে শরীরে পানি আটকে যায়। এর ফলে পা ও গোড়ালি ফুলে ওঠে। যদিও হৃদরোগ বা লিভারের সমস্যাতেও এমন হতে পারে।
কী করবেন?
এই লক্ষণগুলোর এক বা একাধিক দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ব্লাড টেস্ট (ক্রিয়েটিনিন, ইউরিয়া), ইউরিন টেস্ট এবং আলট্রাসনোগ্রাম করলেই প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।
কিডনি রোগ শুরুতে নীরব থাকলেও একসময় শরীরের অন্য অঙ্গকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিন, নিয়মিত পরীক্ষা করান এবং সুস্থ থাকুন।